যশোরের নামকরা চাঁদাবাজ জাফরকে গণপিটুনি, অবস্থা আশঙ্কাজনক

যশোর শহরের রেলবাজারে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে জাফর (২৫) নামে এক শীর্ষ চাঁদাবাজ ও কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে ধরে গনপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা।

জাফর শহরের শংকরপুর এলাকার টুনু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের চাঁদাবাজি এবং ছুরি, চাকু নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।

গনপিটুনির পর চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গতকাল (১৬ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে এলাকার শত শত ব্যবসায়ী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক) সার্কেল গোলাম রব্বানী, কোতয়ালী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানসহ পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে যান। পরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

রেলবাজারের মুদি দোকানি হায়দার আলী, চাল ব্যবসায়ী লিটন, কলার আড়তদার মিজান ও তাইজুলসহ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রেলবাজারে ব্যবসায়ীরা একই এলাকার সন্ত্রাসী মেহেদি ও জাফরসহ ৭-৮ জনের একটি গ্রুপের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই সব চাঁদাবাজের কাছে সব সময় চাকু থাকে। চাঁদাবাজদের প্রত্যেকদিন চাঁদা দিতে হয়। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত চার দিন আগে মেহেদি ও জাফর চাকু ঠেকিয়ে রেলবাজারের ইজারাদার আব্বাসের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে রাজনৈতিক চাপের মুখে দশ হাজার টাকা ফেরতও দেয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কলার আড়তে টাকা আনতে যায় ওই চাঁদাবাজরা। টাকা না দেওয়ায় এই দুই সন্ত্রাসী ছুরি বের করে কলার আড়তদার মিজানকে মারতে যায়। এসময় ব্যবসায়ীরা জাফরকে ধরে পিটুনি দিলেও মেহেদি পালিয়ে যায়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক) সার্কেল গোলাম রব্বানী বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশ যশোরে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী থাকবে না। কোনো বাহিনীর নাম-নিশানা থাকলে তা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে। অতএব আমরা যশোরে কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীকে কোনভাবেই ছাড় দিবো না।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার আহম্মেদ তারেক শামস বলেন-গণপিটুনিতে আহত জাফরকে হাসপাতালে ভর্তি করে সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কোতয়ালী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রেলবাজার এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। আমরা দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর