ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের গৌরনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে কান্দাপাড়া এলাকার মৃত তালেব আলীর ছেলে মিলন সরদার(৮৫) নামে এক বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিপক্ষরা ওই বৃদ্ধের দুই চোখ উপড়ে ফেলে ও জিহ্বা কেটে ফেলে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন। গতকাল সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের তাৎক্ষণিক জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গৌরনগর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ‘আজইরা বাড়ি ও সরকার বাড়ি’ নামে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিরোধ ও বারবার সংঘর্ষ চলছিল। গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির ঘটনায় স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত একাধিক খুনের ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে গত দুই বছরেই চারটি খুনের ঘটনা ঘটে।
সোমবার রাতে গ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিল চলছিল। এলাকাবাসী জানায় সোমবার রাতে আজইরা বাড়ির সানাউল্লাহ নামের এক যুবক ওয়াজ মাহফিলে গেলে সরকার বাড়ির লোকজন তাকে একা পেয়ে বেধরক মারধর করে।
পরে মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে সরকার বাড়ির মিলন সরদারসহ অন্যান্যদের উপর আজইরা বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে বৃদ্ধ মিলন সরদার পাগলা নদীর পাশ দিয়ে পালানো সময় হামলাকারীরা ঘটনাস্থলেই নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় মিলন সরদারের দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয় এবং জিহ্বা কেটে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় গনি মাহমুদ নামের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, তুচ্ছ বিষয়ে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মিলন সরদার নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আক্তারুজ্জামান/বার্তাবাজার/ভি.এস