যে কোনো সময় আমি পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত আছি বলে জানান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন আমোর পদত্যাগে যদি দেশে ও জাতির উপকার হয় তাহলে পদত্যাগ করতে যে কোনো সময় রাজি।
সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে বর্তমান কমিশনের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনার হয়েছি। এখন যদি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আমাদের ব্যাপারে গঠিত হয়। আমাদের কোনোকিছু বক্তব্য তো নাই। ঠিক না? আর একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি পদত্যাগ করে ফেললাম এটা কোনো বিষয় হয় না।
এসময় তিনি আরো বলেন, আমি মোট তিন বার পদত্যাগের অনুরোধ পেয়েছি। কিন্তু কত বার পদত্যাগ করব? এটা একটা প্রশ্ন।
নির্বাচন কমিশনের পঞ্চম বর্ষে আমার বক্তব্য উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ নির্বাচন কমিশনের চার বছর পূর্ণ হলো। আমার পেছনের দিকে ফিরে তাকিয়ে কিছু বলা উচিত। প্রায় সকল নির্বাচনই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু নির্বাচন বিষয়ে আমাদের সকল দাবি জনগণের উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
মাহবুব তালুকদার বলেন, বর্তমান নির্বাচন এককেন্দ্রীক হয়ে যাচ্ছে। এককেন্দ্রীক নির্বাচন বহুদলীয় গণতন্ত্রের উপাদান হতে পারে না। যেহেতু সুষ্ঠ নির্বাচন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র মাধ্যম সেহেতু নির্বাচনের প্রতিটি আইনকানুন এবং আচরণবিধি সঠিকভাবে পালন করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযথ সংস্কার না করার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে।
মাহবুব তালুকদার আরা বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে আমার মনে হয় নির্বাচন নির্বাসনে যেতে চায়। নির্বাচন মানেই হচ্ছে ভোট দ্বার জনপ্রতিনিধি বাছাই করা কিন্তু আজকাল সেটা একদমই পরিলক্ষিত হয় না। বিতর্কিত নির্বাচন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
তিনি বলেন, আগামী মে মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে ব্যাপক পরিসরে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচনেও সহিংসতার আশংকা করি। আচরণধি লঙ্ঘন ও হানাহানি বর্তমানে নির্বাচনের অনুসঙ্গ হয়ে গেছে। কোনো অনভিপ্রেত ঘটনাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মিলে একটি অবিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যকালের শেষবর্ষের প্রারম্ভে দাঁড়িয়ে একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ এই প্রবাদবাক্যটিকে কি আশ্রয় করতে পারি? প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম