তিতাসে মৎস্য প্রজেক্ট মালিকদের মিথ্যা মামলায় কৃষকরা দিশেহারা

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মৎস্য প্রজেক্টের মালিকদের মিথ্যা মামলার দৌড়ান্তে কৃষকরা দিশে হারা হয়ে পরেছে এবং সেচের অবাবে ২শ একর জমির ফসল উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশংঙ্কাসহ গ্রামীণ সড়ক ও কবর স্থান বিলুপ্তির উপক্রম হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামে।

রবিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জিয়ারকান্দি পূর্ব পাড়া ও গোপলপুর দক্ষিন চকের প্রায় ২শ একর জমি নিয়ে একটি ইরিগেশন প্রজেক্ট করে ২৭ সদস্য কমিটি উক্ত প্রজেক্টটি পরচিলনা করে আসছে। এদিকে জিয়ারকান্দি পূর্ব পাড়ার কৃষকদের কোন প্রকার টাকা না দিয়ে প্রায় ৪০ একর জমিতে জোরপূর্বক মৎস্য প্রজেক্ট করেন যার ফলে গ্রামীণ সড়কসহ কবর স্থান, পাশের বাড়ি গলিও ব্যাপক ক্ষতির স্বীকার হয়েছে। ওই গ্রামের তমিজ উদ্দিন,শাহ-আলম ও মজিবগং প্রায় এক মাস পূর্বে প্রজেক্টের মাছ ধরে নিয়ে নিলেও কৃষকের রোপনকৃত ইরি জমিতে সেচ দিতে বাধা প্রাদান করে আসছে এবং ১৪জন কৃষকের নাম উল্লেখ করে আরো ৫/৬জনকে অজ্ঞাত রেখে তমিজ উদ্দিন বাদী হয়ে ৩৫ লাখ টাকার মাছ চুরির অভিযোগ এনে একটি মিথ্যা মামলা করেছে বলে ওই গ্রামের শত শত নারী পুরুষ দাবী করেন।

এবিষয়ে মৎস্য প্রজেক্টের সদস্য এমদাদুল হক ধানু বলেন আমাদের প্রজেক্টের মাছ এক মাস পূর্বেই আমরা বিক্রি করে ফেলেছি,প্রজেক্টে কোন মাছ চুরির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও একাধিক কৃষক সাংবাদিকদের বলেন তমিজ, শাহ-আলম মেম্বার ও মজিবের বাধার কারনে আমাদের জমিতে সেচ দিতে পারছিনা ফসল উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশংঙ্কা উপক্রম হয়েছে এবং সেচের অভাবে জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি এবং আমাদের যাতায়তের এক মাত্র গ্রামীণ সড়কসহ কবর স্থান ও প্রজেক্ট পাড়ের বাড়ি গুলো আজ ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।

আজ তমিজ, শাহ-আলম ও মজিব তারাই উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামের মানুষকে হয়রানি করছে। গ্রামবাসী স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দাবী করে বলেন অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গ্রামের মানুষদেরকে শান্তিতে বসবাস করার জন্য ব্যবস্থা করে দিবেন। তারা আরো বলেন যদি এমনটি না হয় তাহলে গ্রামে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার সম্ভাবনা আছে আর এর দায়ী হবেন এলাকার জন প্রতিনিধি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বিষয়ে ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মনু মিয়া বলেন, তমিজ উদ্দিনের দোচালা ঘরে স্কীমের বিদ্যুৎতের ট্রান্সমিটার ছিল কিন্তু তমিজ,শাহ-আলম ও মজিব এটি দিতে রাজি না হওয়ায় এবং জমিতে সেচ দিতে বাদা দেওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎেতের লোক এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ট্রান্সমিটার উদ্ধার করে নিয়ে আসে,এটাকেই তমিজ,শাহ-আলম ও মজিবসহ আরো কয়েকজনের যোগসাজসে আমাদের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। তারা এই মিথ্যা মামলার সঠিক তদন্তের দাবি করেন।

এদিকে মামলার বাদী তমিজ উদ্দিন বলেন ট্রান্সমিটারটি আমার পাকের ঘরে ছিল কিন্তু তারা ওই ঘরে না যেয়ে আমার বসত ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায় এবং ১৫ দিন আগেও মৎস্য প্রজেক্ট থেকে ৩৫ লাখ টাকা মাছ চুরি করে নিয়ে যায়।

এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মধুসূধন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবদিকদের বলেন, মামলা তদন্তাধীন আছে।

মোঃ আসলাম/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর