ট্রাম্পের অভিশংসন: সেনেটে এ যাত্রাতেও বেঁচে গেলেন ট্রাম্প

গত ৬ই জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গা উস্কে দেয়ার অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য মার্কিন সেনেটে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল, তার চেয়ে কম হয়েছে।

সেনেটরদের মধ্যে ৫৭ জন মি. ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, এর মধ্যে সাতজন রিপাবলিকান সেনেটর আছেন। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৪৩টি।

কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য দুই তৃতীয়াংশ বা ৬৭ টি ভোট প্রয়োজন ছিল। সে হিসেবে ট্রাম্পকে অভিশংসন করার পক্ষে ১০টি ভোট কম আছে।

অব্যাহতি পাওয়ার পরে মি. ট্রাম্প এই বিচার প্রক্রিয়াকে “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উইচ হান্ট” হিসাবে নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।

এটি ছিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিশংসন। ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরো একবার অভিশংসনের চেষ্টা হয়েছিল।

যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হতেন, সেনেট তাকে আবারও প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থী হতে বাধা দেওয়ার পক্ষে ভোট দিতে পারত।

ভোটাভুটির পর কংগ্রেসের সিনিয়র রিপাবলিকান, সেনেটর মিচ ম্যাককনেল বলেছেন যে মি. ট্রাম্প ক্যাপিটল হিলে হামলার পেছনে দায়ী ছিলেন এবং তিনি একে “অসম্মানজনক এবং দায়িত্বের প্রতি চরম অবহেলা” বলে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে, তিনি মি. ট্রাম্পের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। মি. ট্রাম্প আর প্রেসিডেন্ট পদে না থাকায় এই প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

২০শে জানুয়ারি, মি. ট্রাম্পের দায়িত্ব ছাড়ার আগ পর্যন্ত মি. ম্যাককনেল তার বিচার স্থগিত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিলেন।

তবে মি. ম্যাককনেল, মি. ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে তাকে হয়তো এখনও আদালতের মুখোমুখি হতে পারে।

“তিনি এখনও পালিয়ে যাননি। তাছাড়া আমাদের দেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা রয়েছে, আমাদের দেওয়ানী মামলার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সাবেক প্রেসিডেন্টদের কেউ এর কোনটি থেকে জবাবদিহিতার হাত থেকে রেহাই পান না,” তিনি বলেন।

শনিবার কি হয়েছিল?

সেনেটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের নিযুক্ত করা হয়েছে।

তারা তাদের সমাপনী বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি করেছেন যে মি. ট্রাম্পকে অব্যাহতি দেওয়া বিপজ্জনক হবে।

প্রতিনিধি জো নেগুস বলেন, “এর চাইতে বেশি ঝুঁকির আর কিছু হতে পারে না কারণ কঠিন সত্যটি হল ৬ই জানুয়ারিতে যা ঘটেছে তা আবারও ঘটতে পারে,”

প্রতিনিধি ম্যাডেলেইন ডিন বলেছেন, “ইতিহাসে এই ঘটনা থেকে যাবে। আমি আপনাদের অন্য পথে না যাওয়ার জন্য বলছি।”

তবে মি. ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল ভ্যান ডার ভিন এই প্রক্রিয়াকে “শো ট্রায়াল” বা লোক দেখানো বিচার হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে ডেমোক্র্যাটরা মি. ট্রাম্পকে অভিশংসন করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

“এই অভিশংসন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তামাশা ছাড়া কিছুই ছিল না,” তিনি বলেন। ” মি. ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া সেটাই এসব ঘটনায় সামনে এসেছে।

মিঃ ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন যে কোনও প্রেসিডেন্টকে এর আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি এবং আমেরিকাকে পুনরায় শ্রেষ্ঠ করে তোলার আন্দোলন, সবেমাত্র শুরু।

উত্তর আমেরিকার সংবাদদাতা অ্যান্থনি জার্চারের বিশ্লেষণ

প্রাথমিক অবস্থাতে বলা যায় যে, এটি সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য একটি জয়। তিনি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান তাহলে তিনি ২০২৪ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পদে দাঁড়াতে পারবেন।

তার ভিত, এখনও অক্ষত আছে। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেটে উভয় কক্ষের, বেশিরভাগ রিপাবলিকান এই অভিশংসন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছেন।

যারা এই ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন তারা ইতিমধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে তিরস্কার করেছেন রিপাবলিকান নেতারা।

তবে ট্রাম্প এই অভিশংসন বিচার থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এসেছেন, সেটাও বলা যাবে না। অভিশংসন পরিচালকদের দ্বারা পরিচালিত এই বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম স্মরণীয় বিষয় হল ট্রাম্প সমর্থকদের নতুন ভিডিও, যেখানে মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন টুপি পরে এবং ট্রাম্পের পতাকা উড়িয়ে, ক্যাপিটলে তাণ্ডব চালয়েছিল।

এই ছবিগুলো চিরকাল ট্রাম্পের নামের সাথে যুক্ত থাকবে। তিনি এখন থেকে যে মিছিল বা সমাবেশ করুন না কেন সেটা এই দাঙ্গার স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে।

এটি হয়তো তার রিপাবলিকান পদমর্যাদা এবং নথিতে কোন সমস্যা করবে না, তবে স্বতন্ত্র ভোটার – এবং মধ্যপন্থীদের – এই ঘটনা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

সেনেট কেন কোনও সাক্ষীদের কথা শোনেনি?

সেনেটররা প্রথমে ব্যক্তিগত সাক্ষ্যের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, যার কারণে শনিবারের সম্ভাব্য রায় বিলম্ব হতে পারতো। তবে যে কোনও বিলম্ব এড়াতে তারা জরুরি আলোচনার ভিত্তিতে রায় পরিবর্তন করে, এবং কেবল লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করে।

দাঙ্গা চলাকালীন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান কর্মকর্তা কেভিন ম্যাকার্থির মধ্যে ফোনালাপের পরে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্য জাইম হেরেরা-বিউলার বলেছেন, মি. ম্যাকার্থি তাকে ওইদিনই এই ফোনালাপের কথা বলেছিলেন।

তিনি বলেন যে মি. ম্যাকার্থি মি. ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন দাঙ্গাবাজদের সরিয়ে নেন, তবে প্রেসিডেন্ট এর পেছনে বামপন্থী আন্দোলনকারীদের দোষ দিয়েছেন যারা “অ্যান্টিফা” নামে পরিচিত।

“ম্যাকার্থি এটি অস্বীকার করে প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন যে ওই মানুষগুলো ট্রাম্পের সমর্থক” মিসেস হেরেরা-বিউলার বলেছেন।

“ম্যাকার্থির মতে তখনই প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন:” ঠিক আছে, কেভিন, আমার মনেহয় এই মানুষগুলো নির্বাচনের ফল নিয়ে আপনার চাইতে বেশি মর্মাহত।”

কংগ্রেসওম্যানের এই বক্তব্য লিখিত প্রমাণ হিসাবে নেয়া হয়েছে।-বিবিসি বাংলা

বার্তাবাজার/হৃ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর