‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান/আমার আপনহারা প্রাণ/আমার বাঁধন ছেঁড়া প্রাণ/তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান/তোমার অশোকে কিংশুকে/অলক্ষ্যে রঙ লাগল আমার অকারণের সুখে…।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের কথাগুলোর মতোই প্রকৃতির পাশাপাশি মানুষের মনেও ছড়িয়ে পড়ছে ঋতুরাণী বসন্তের আবেদন।
মহামারী করোনার মধ্যেও জোড় প্রস্তুতি চলছে বসন্ত বরণের। তবে এবছর বসন্তের ছোঁয়া লাগছে না পুরান ঢাকার প্রাণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে।
পুরান ঢাকায় বসন্তবরণের জন্য বরাবরই বিখ্যাত জবি ক্যাম্পাস। বসন্তী সাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দর্শনার্থী ও পুরান ঢাকাবাসীর সরব উপস্থিতি থাকে এদিন জবিতে। প্রতিটি বিভাগেই থাকে আলাদা-আলাদা আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মিলনায়তন, ভাষা শহীদ রফিকভবনের নিচতলা, ইউটিলিটি ভবন, কলাভবন, পোগজ স্কুল প্রতিটি জায়গা ঘিরে থাকে বসন্তবরণের ব্যস্ততা। বিশেষ করে এইদিন ঘিরে বাংলাবিভাগ ও চারকলা বিভাগের আয়োজন থাকে চোখে পড়ার মত। এছাড়াও থাকে উদীচী, বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ অন্যান্য সংগঠনের কর্মসূচী।
তবে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ১১ মাস ধরে বন্ধ জবি ক্যাম্পাসের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা। ফলে উপস্থিতি নেই শিক্ষার্থীদেরও। তাই এবছর থাকছে না ক্যাম্পাসে কোনো আয়োজন। ক্যাম্পাসে আয়োজন না থাকলেও সীমিত পরিসরে অনলাইনে আয়োজন রাখছে বাংলা বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
চারুকলা বিভাগের ১৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাঈম মৃধা বসন্তবরণের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাদের বিভাগের বসন্তবরণ উৎসবকে আমরা ভর্তাউৎাব বলতাম। ২৫-৩০ রকমের ভর্তার আয়োজন করা হতো আমাদের বিভাগের বসন্ত বরণ আয়োজনে। বন্ধু-বান্ধব, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে খুব বেশি মনে পড়ছে এখন।
বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি ফাইয়াজ হোসেন বলেন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিটি ঋতুকে বরণ করতে বিভিন্ন আয়োজন হাতে নেই। কিন্ত এবছর করোনার কারণে অনলাইনে বসন্ত বরণ করছি আমরা। বসন্তের আগমনের সাথে সাথে সুস্থ হয়ে উঠুক পৃথিবী এটায় কামনা।
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমী বলেন, জবিতে বসন্ত বরণ মানে বাংলা বিভাগ। সবচেয়ে বড় আয়োজনটা বাংলা বিভাগই করে জবিতে। অন্য বছরগুলোতে একমাস আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি শুরু হতো। কে কোন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করবে, কোন নাটকটা হবে, কিভাবে মঞ্চ সাজানো হবে, এমন কতরকম ব্যস্ততা থাকতো মাসজুড়ে। সেসবদিনগুলো আজ খুব বেশি মনে পড়ছে। এখন শুধু পৃথিবীর সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় আমরা। দ্রুত ফিরতে চাই ক্যাম্পাসে, যেন আগামীতে ক্যাম্পাসে বাংলা বর্ষবরণটা করতে পারি।
বার্তাবাজার/পি