ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পরেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পার হলেও ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়নি শহীদ মিনার। এর ফলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ভাষা শহীদদের সম্পর্কে জানে না তরুণ প্রজন্ম। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে তা বছরের পর বছর পড়ে থাকে অযত্ন-অবহেলায়।

আর যেসব প্রতিষ্ঠানে একবারেই নেই শহীদ মিনার সে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীর কথা নয় নাই বললাম। তাদের মনে পড়ে কি মাতৃভাষার ইতিহাসের কথা? তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এত বছরেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি বলে মনে করেন শুধিজনেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিদ্যালয় রয়েছে ২০টি, মাদরাসা ০৭টি, কলেজ ০৪টি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৩টিসহ মোট ১০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ০৪টি কলেজ, ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলনের প্রতীক শহীদ মিনার থাকলেও ০৭টি মাদরাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই। সবমিলিয়ে এ উপজেলায় ৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই ভাষা আন্দোলনের প্রতীক শহীদ মিনার।

এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বঞ্চিত থাকে। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে; তারমধ্যে কিছু শহীদ মিনার তা বছরের পর বছর পড়ে থাকে অরক্ষিত অবস্থায়। এসব শহীদ মিনারে কখনও গবাদি পশুর বিচরণ আবার কখনও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হতে দেখা যায়।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, স্বাধীনতার ৫০বছরেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকা সত্যিই দুঃখজনক। এ এলাকার কমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রীতিকণা বিশ্বাস জানান, আমার উপজেলায় ৭৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। স্বাধীনতার পরেও এ পর্যন্তু সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় আমিও ব্যথিত। গত সপ্তাহে আমার ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি শহীদ মিনার না থাকার বিষয়ে; জেলা শিক্ষা স্যার বলেছেন দ্রুত বাকি ৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। আশা রাখছি এ বছরের মধ্যেই এ উপজেলার সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন হয়ে যাবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান বলেন, ‘স্বাধীনতার এতো বছর পরেও যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের প্রতীক শহীদ মিনার নাই সেটা খুবই দুঃখজনক। উপজেলা পরিষদের আগামী মিটিংয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে দ্রুত এ উপজেলার প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো। আশা রাখছি চলতি বছরেই বাকী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়ে যাবে।’

মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর