ফরিদপুরের সদরপুরে ৮ বছরের এক মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মটুকচর গ্রামের জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই ছাত্রের মাতা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বলৎকার হওয়া শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। অপরদিকে অভিযুক্তকে আটক করে।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বলাৎকার করে আসছে মাদ্রাসার শিশু ছাত্রকে একই মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থী রানা (ছদ্ম নাম)। সে মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাদান করাতেন। বলৎকারের শিকার হওয়া শিশুটি শুক্রবার বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হলে তার মায়ের নিকট বিষয়টি খুলে বলেন। পরে পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীকে জানালে অভিযুক্ত ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উপর ক্ষেপে ওঠেন এলাকাবাসী। এ ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষণিক হৈচৈ পড়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে বলৎকার শিকারের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র রানাকে (ছদ্ম নাম) মারধর করে। পরিস্থিতি খারাপ থাকায় মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সাদেকুর রহমান অভিযুক্ত ছাত্রকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অভিযুক্ত রানা-ছদ্ম নাম (১৬) জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা ৭ম জামাতের শিক্ষার্থী। সে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বড় পাইককান্দি গ্রামের আইয়ুবের (ছদ্ম নাম) পুত্র।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বার্তা বাজারকে জানান, কয়েকদিন ধরে হুজুর আমাকে বিভিন্ন কৌশলে বলৎকার করে আসছে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি আমার মাকে বিষয়টি জানাই। আমি কাওকে এ ঘটনা বললে হুজুর আমাকে মেরে ফেলবেন বলেও ভয় দেখান।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীর মা ক্ষোভের সঙ্গে বার্তা বাজারকে জানান, আমরা এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। আমি এর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করছি। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি।
এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মো. সিদ্দিকুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। আমাকে ফোন করা হলে আমি মাদ্রাসায় আসি। আমি এ ঘটনার কিছুই জানিনা।
এ ব্যাপারে সদরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বার্তা বাজারকে জানান, ঘটনাটির খবর পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়েছি। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। প্রধান আসামীকে ধরা হয়েছে। আসামীকে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/হৃ.আর