গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভোগান্তির আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের

২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না হওয়ায় জেএসসি-এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল গড় করে গত ৩০ জানুয়ারি এইচএসসির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাই দেড় লাখের বেশি। তার সাথে যুক্ত হয়েছে আরো কয়েক লাখ সেকেন্ড টাইমার।

অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন রয়েছে ৫০ হাজারেরও কম। ফলে উচ্চশিক্ষায় কঠিন ভর্তিযুদ্ধের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীরা।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার এমন মূল্যায়ন ফলে ন্যূনতম স্কোর করা সত্ত্বেও সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। বিপাকে পড়েছেন বিভাগ পরিবর্তন শিক্ষার্থীরা ও মানউন্নয়ন পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক এইচএসসি ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, সবাইকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে বাছাইপর্বে এভাবে বাদ দেয়া কাম্য নয়। এতে করে মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নভঙ্গ হবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর।

সদ্য ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, দেশের ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে পাস করেছেন ১৩ লাখ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। আগের বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। সে হিসেবে এবার অটোপাসে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনগুণেরও বেশি।

গুচ্ছভুক্ত ২৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসিতে সর্বোচ্চ জিপিএ প্রাপ্ত থেকে সর্বনিম্ন জিপিএ প্রাপ্ত পদ্ধতি ব্যবহার করে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। ভর্তীচ্ছু আবেদনকারীর বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৭, বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৬.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৬ থাকতে হবে। তবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩ থাকতে হবে। নির্ধারিত জিপিএ প্রাপ্ত সব শিক্ষার্থীই প্রাথমিকভাবে আবেদনের সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ পাবেন প্রায় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ শিক্ষার্থী। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে করে সবচেয়ে বেশি শঙ্কায় পড়েছে তুলনামূলক কম জিপিএ ধারী, বিভাগ পরির্বতন ইচ্ছুক এবং ২০১৯ সেশনের মানউন্নয়ন পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক সেকেন্ড টাইমাররা । যেহেতু এবছর পরীক্ষার্থীদের জিপিএ তুলনামূলক বিগত বছরগুলো থেকে বেশি, সেজন্য কম জিপিএ ধারী ও ২০১৯ সেশনের মানউন্নয়ন পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক সেকেন্ড টাইমারদের বাছাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার শঙ্কায় তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, বিভাগ পরির্বতন ইউনিট বাতিল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঐ ইউনিটের ভর্তি প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছে।নিজ বিভাগের প্রস্তুতি কম থাকায় তাদের ভর্তিপ্রস্তুতি বেশ দুর্বল। এতে করে এসকল শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ।

সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা রাফি উদ্দিন বার্তাবাজারকে বলেন , ” এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। তার বাহিরে আরো লাখের কাছাকাছি পরীক্ষার্থীর জিপিএ ৪ থেকে জিপিএ ৫ এর মধ্যে রয়েছে। এতে করে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষা নিতে না পারার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাদের জেএসসি ও এসএসসি সমমানের ফলাফল খুব একটা ভালো না হলেও এইচএসসিতে ভালো ফলাফল করা সম্ভাবনা ছিলো। আবার, বিভাগ পরির্বতন ইউনিট বাতিল হওয়ায় দীর্ঘদিনের ঐ ইউনিটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং কম জিপিএ ধারী পরীক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন মাটিতে মিশে যাবে। ”

সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে পাস করা নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আরো এক পরীক্ষার্থী বলেন, ” গুচ্ছ পদ্ধতিতে জিপিএ আলোকে বাছাই প্রক্রিয়ায় অনেক কম জিপিএ ধারী মেধাবী শিক্ষার্থীরা বাদ পড়ে যেতে পারে। বাছাইতে বাদ পড়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশা, তাদের জীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটা কখনোই কাম্য নয়।

সেজন্য বাছাই প্রক্রিয়া বাতিল করে নূন্যতম আবেদনের যোগ্যতাসম্পন্ন সবাইকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া উচিত। ”

অন্যদিকে, নোয়াখালী জেলার সৈকত সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এবছর পাস করেন আশরাফ হোসেন। এ পরীক্ষার্থী বলেন, ” এ বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখের মতো মানবিকের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। সেখান প্রায় সাড়ে তিন লাখের মতো শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। অথচ বিগত বছরগুলোতে কম জিপিএ নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযোগ পাওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে। এভাবে আমাদের জিপিএ আলোকে বাদ দেওয়া কোনভাবে যৌক্তিকযোগ্য নয়। কম জিপিএ ধারীদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা ও আশংকা তৈরি হচ্ছে, যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর