রাত বাজে ১ টা। হুট করে বন্ধুর মারাত্মক বুক ব্যাথা। দম নাকি বন্ধ হয়ে আসতেছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। পরিবহণ পুলের কর্মকর্তাকে ফোন দিলাম। উনি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারকে দ্রুত আসতে বললেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর দেখলাম এক ব্যক্তি সাইকেল চালিয়ে দ্রুত গতিতে আসতেছে, এসেই অ্যাম্বুলেন্স চালু করলেন। হ্যা, উনিই অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার। তখন বাজে রাত ১ টা ৩০ মিনিট। তিনি হয়তো নিজ বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম বাদ দিয়ে দৌড়ে এসেছেন রোগীকে হাসপাতালে নিতে।
বলছিলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আ্যম্বুলেন্সের ড্রাইবার মো: রাজু হাওলাদারের কথা। দিন-রাত যখনই ফোন আসে ছুটে যেতে হয় তাকে। এই করোনার মাঝে বিভিন্ন ড্রাইভার, কর্মচারী যখন ছুটিতে তখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে হয়েছে তাকে। এরপর ঝুঁকি ভাতার জন্য রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করলেও ঝুঁকি ভাতার এক টাকাও পাননি তিনি।
তিনি ছাড়াও আরো ৪-৫ জন ড্রাইভার করোনাকালীন সময়ে সেবা দিয়েছেন, কিন্তু ঝুঁকি ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সবাই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়েও ঝুঁকি ভাতা না পেয়ে দুঃখ প্রকাশ করছেন তারা।
কোভিট-১৯ এর কারনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজু হাওলাদারকে আ্যম্বুলেন্স নিয়ে ছুটতে হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে। দিন-রাত যখনই কেউ অসুস্থ হয়েছে তখনই দ্রুত আসতে হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের জন্য তার বিকল্প কোনো ড্রাইভার না থাকায় সবসময়ই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয় তাকে।
জানা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আ্যম্বুলেন্স চালাচ্ছেন। তিনি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে অফিস সহকারী কাম ডাটা প্রসেসর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ড্রাইভিংয়ে তার দক্ষতা দেখে প্রশাসন তাকে আ্যম্বুলেন্স চালানোর লিখিত অনুমতি দেয়।
এ নিয়ে আ্যম্বুলেন্স ড্রাইবার মো: রাজু হাওলাদার বলেন, আমি এ ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম এবং আবেদনও করেছিলাম। কিন্তু ইউজিসি থেকে যা বরাদ্দ এসেছিলো সেটুকু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের দিয়ে দেয়ার পর আর পাইনি। আর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও কোন উদ্যোগের খবর জানি না।
ঝুঁকি ভাতা না দেয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো: আবু তাহের বলেন, এ ব্যাপারটা এফসিতে (ফিন্যান্সিয়াল কমিটি) উঠিয়েছিলাম কিন্তু সেটা পাশ হয়নি। এটা শুধু ফ্রন্টলাইনারদের দেয়া হয়েছে। আর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছে নিজস্ব ইনকাম থেকে, সেটা তো আমাদের নেই।
সাজ্জাদ বাসার/বার্তাবাজার/এ.আর