কক্সবাজারের টেকনাফে জমি জবর দখলের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে হামলা করতে গিয়ে পুত্রের হাতে পিতা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে একটি মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ ভোক্তভূগী পরিবারের।
গত বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জমির মালিক মহছেনের দাবী, সিকদার পাড়া এলাকার নজির আহমদ গং একই এলাকার আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে বিএস ৫৯৭৩ নং খতিয়ানভূক্ত ০.১৭৬৭ শতক জমি কিনে নেয়। কেনার পর উক্ত জমিতে নজির আহমদ গং গত ৪ জানুয়ারি ক্রয়কৃত জমিতে স্থাপনা নির্মান করতে গেলে স্থানীয় গফুর ও তার ছেলেরা এসে কাজে বাঁধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে বাক বিতন্ডার সুত্র ধরে উভয় গ্রুপের মধ্যে হাতা হাতি হয়। এসময় গফুরের ছেলে হেলাল কোদাল দিয়ে জমির মালিক নজির আহমদকে হামলা করতে আসলে, কুদালের আঘাতে তার পিতা গফুর আহত হয়।
জমির অপর মালিকের দাবী, ঘটনার পরে আমাদের গায়েল করতে নিজেদের ফার্মের কিছু মুরগী মারা গেছে বলে মিথ্যে অভিযোগ তুলেছে। স্থানীয় বিতর্কিত একটি ফেসবুক টিভিতে সংবাদ প্রকাশ করেছে যা ভিত্তিহীন। আমরা এই ঘটনার সুস্থ সুরাহা চাই।
জমির মালিক নজিরের স্ত্রী দিলদার বেগম বার্তা বাজারকে জানান, জমি দখলে নিতে না পেরে গফুরের সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘেরা-বেড়া, দরজা, জানালা ভাংচুর করে। এসময় তারা আমার স্বামীর হাতে কুপিয়ে জখম করে। পরে একটি মিথ্যা অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ আমার স্বামী নজির আহমদকে আটক করে নিয়ে যায়।
এদিকে জমির কাগজ পত্র যাচাই বাচাই করে জানা গেছে, বিএস ৫৯৭৬ খতিয়ানের ০.১৭৬৭ (শূন্য দশমিক এক সাত ছয় সাত) একর জমির মালিক নজির আহমদ গং। এই জমিটি নজির আহমদ গং এর নামে সাফ কবলা মূলে রেজিষ্ট্রেশন সম্পাদন হয়েছে। কাগজ পত্র মূলে নজির আহমদ গং জমিটির প্রকৃত মালিক।
তবে গফুরের ছেলে হেলালের দাবী, আমাদের বায়ানাকৃত জমি নজির গং ভয়ভীতি দেখিয়ে আনোয়ারার কাছ থেকে কিনে ঘেরা নির্মান শুরু করে। আমরা বাঁধা দিতে গেলে আমার বাবাকে হামলা করে। তবে জমি বায়নার কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি তারা। পরে আমাদের খামারের কর্মচারীদের তাড়িয়ে দিয়ে খামারে তালা লাগিয়ে দেয়, এতে হাজার খানেক মুরগী মারা গেছে।
এদিকে মুরগী মেরে ফেলার অভিযোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে দুটি গর্ত দেখা গেছে। তাদের দাবী দুটি গর্তে তারা মুরগী পুতে ফেলেছে। এছাড়াও খামারে ঠান্ডা জনিত কারনে অসুস্থ হয়ে কিছু মুরগী মরে পড়ে আছে মুরগীর চালি গুলোতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বার্তা বাজারকে জানায়, গফুর বিগত কয়েক বছর পূর্বেও শাক সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতো। এক রোহিঙ্গা নারীর একটি ইয়াবার চালান আত্মসাত করে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। এর পর থেকেই এলাকায় একের পর এক জমি কিনে গোটা পাড়া নিজের কব্জায় নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একই ভাবে এই জমিটি দখলে নিতে গিয়ে জমির মালিক নজির আহমদ গং এর উপর হামলা চালায়।
বার্তাবাজার/হৃ.আর