মাদারীপুরের রাজৈরে সরকারী খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে বলে এক আ.লীগ নেতার নামে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, আসছে ইউপি নির্বাচনে জনসমর্থন ও ভোট পাওয়ার জন্য রাস্তাটি নির্মান করেছে প্রভাবশালী এই আওয়ামীলীগ নেতা।
স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের গঙ্গাবর্দী গ্রামে প্রবাহমান খালের উপরে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। খাল ভরাটের অভিযোগ স্থানীয় প্রভাবশালী এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মানের নেপথ্যের কারন ইউপি নির্বাচনে জন সমর্থন ও ভোট বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
বাজিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম ফকির নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি নির্মান করে। প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় লোকজন কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৭ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে ০.৬৪০ কি.মি খালটি খনন করে কুমার নদের সাথে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই খালের উপরে সম্প্রতি মাটি দিয়ে ভরাট করে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। রাখা হয়নি পানি প্রবাহের জন্য কোন ব্যবস্থা। যার ফলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন, জলাবদ্ধতাসহ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া রাস্তা নির্মানের জন্য পাশর্^বর্তী কয়েকটি বাড়ির পাশ থেকে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। বর্ষার মৌসুম শুরু হলেই ঐ সব বাড়িঘর ভাঙ্গনের কবলে পড়ার আশংকা রয়েছে।
জালাল ফকির নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে বেশি মাটি কাটা হয়েছে। এর ফলে জালাল ফকিরের বাড়িটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বার্তা বাজারকে জানান এই ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল ফকিরের স্ত্রী বার্তা বাজারকে জানান, মাটি কেটে রাস্তা বানাইছে হালিম ফকির ও সান্টু খালাসী। সামনে হালিম ফকির চেয়ারম্যানি নির্বাচন করবে। ভোট লাগবে, সেজন্য রাস্তা বানাইয়া সবাইরে দেহায়। ক্ষতি তো হইলো আমাগো। বাড়ি ভাইঙ্গা পড়বে আমার।
এ বিষয়ে স্থানীয় আমান খালাসী (ছদ্ম নাম) বার্তা বাজারকে বলেন, খালের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মান করায় পানি যাওয়া আসা বন্ধ। আগামী বছর ধান, পাটের ফলন ও ভাল হবে না পানির অভাবে। সরকারী খাল সরকার কাটছে। তারা খাল ভরে রাস্তা করার কে? সরকার কত ব্রীজ করে, এখানে ব্রীজ করলেই তো হয়। এত ক্ষমতা পারলে ব্রীজ করে ভোট নিতে আসুক, ভোট দেব। আমাদের বিপদে ফেলে রাস্তা করার কি দরকার। সে তো থাকে ভাল জায়গায়। তার টাকা আছে ক্ষমতা আছে। খালের দরকার তার না থাকলেও আমাদের আছে। সরকার বিষয়টি নজরে আনলে সব সমস্যার সমাধান হবে। আমরা চাই সমস্যাটির সমাধান হোক।
এ বিষয়ে হালিম ফকির ও সেন্টু খালাসীর কাছে জানতে চাইলে তারা বার্তা বাজারকে বলেন, আমরা খাল খনন করিনি।
বাজিতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার বার্তা বাজারকে বলেন, আমার ইউনিয়নে যথেষ্ঠ উন্নয়ন হয়েছে। ঐ জায়গায় ব্রীজের জন্য প্রস্তাব পাঠাতাম। কারা খাল খনন করে রাস্তা নির্মান করেছে সেটা আমি জানি না। তবে যারা সরকারী সম্পদ নষ্ট করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আমি উপজেলায় বিষয়টি জানাবো। তবে আমি মনে করি খালটির পানি প্রবাহ ঐ এলাকার মানুষের জন্য খুব দরকার। না হলে কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বার্তা বাজারকে বলেন, খাল খননের বিষয়টি আমাদের দায়িত্বে। খাল রক্ষার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করবো।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন বার্তা বাজারকে বলেন, সরকারী খাল দখল করা বা তার উপর রাস্তা নির্মান করা আইনত দন্ডনীয়। যদি কেউ এমন কিছু করে থাকে তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/হৃ.আর