জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে আসা জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের পত্নী রওশন এরশাদ। একইসাথে তিনি সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা। কিন্তু প্রায় বছরখানিক হয়ে গেল তাকে কোনো কর্মসূচীতে দেখতে পাওইয়া যায়নি।
করোনাকালেও তাকে কোনো কাজে দেখা যায়নি। দেশের বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রকাশ আর অর্জনে অভিনন্দন জানানোই যেন তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের শেষ সীমারেখা।
দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, পার্টিতে রওশন এরশাদ অনেকটা নির্ভৃতচারী হয়ে পড়েছেন। দলের কিছু শীর্ষথস্নাইয় নেতা তার পাশে থাকলেও তারা এখন পিছপা হয়েছেন। যার ফলে পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে নীরব ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হয়েছেন সাবেক এই ফার্স্টলেডি।
২০১৯ সালে পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর দলের কর্তৃত্ব নিয়ে শুরু হয় আন্তকোন্দল। অবশেষে দলের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শীর্ষ পদে স্থান পান রওশন। তবে তা কেবলই নামে। আদতে তার হাতে কোনো সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই।
চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার দেবর জি এম কাদের। তবে এখনও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার পদে রয়েছেন রওশন এরশাদ।
জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, এরশাদের জীবদ্দশাতেই রওশনের সাথে জিএম কাদেরের বিভিন্ন মতনৈক্য দেখা দিয়েছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি চেয়েছিলেন দলের চেয়ারম্যান হতে। কিন্তু লিখিতভাবে জিএম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করে যান এরাসদ। যার ফলে জিএম কাদেরের দিকে দলের নেতাকর্মীদের পাল্লা ক্রমশ ভারী হওয়ায় কোনঠাসা হয়ে যান রওশন এরশাদ।
সূত্র জানায়, রওশন এরশাদ আলাদাভাবে জাতীয় পার্টি গঠন করার চেষ্টাও চালিয়েছেন। কনভেশন করে জিএম কাদেরকে দলের শীর্ষ ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু সেটি সফলতো হয়নইনি বরং তার সমর্থনে থাকা নেতৃবৃন্দও ভিড়েছেন জিএম কাদেরের দিকে।
রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে বিরোধী দলীয় নেতা সমাপনী বক্তব্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি সমাপ্ত হয়ে যাওয়া অধিবেশনে পাওয়া যায়নি রওশনকে।
এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে রওশন এরশাদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তার পরিবারেরও কেউও এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে রাজি না।
বার্তাবাজার/এসজে