সাতক্ষীরায় সিরিজ বোমা মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, ১ জন খালাস

সাতক্ষীরা শহরের ৬টি স্থানে সিরিজ বোমা হামলার মামলার রায় দিয়েছে সাতক্ষীরার আদালত। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) এর বিচারক মোঃ শরিফুল ইসলামের আদালতে মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বুধবার রায় ঘোষণা করেন।

উক্ত মামলায় ১৯ আসামীর মধ্যে ৮ জনের সাজা ১৩ বছর করে। ১ জন খালাস, বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন জজ আদালতের পিপি এ্যাড. আব্দুল লতিফ। তাকে সহায়তা করেন অতিরিক্ত পিপি এ্যাড. আব্দুস সামাদ।

মামলায় আসামীপক্ষে ছিলেন এ্যাড. জিএম আবুবকর সিদ্দীক। তিনি আইনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে ৩,৪,৬ ধারা প্রযোজ্য নয়। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি।

মামলায় বাদী সহ ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। এর মধ্যে ৫টি মামলার ১৬ জন আসামীর সবাইকে খালাস এবং একটি মামলায় ২৫ আসামীর মধ্যে ১ জন আসামীকে খালাস দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট সাতক্ষীরা শহরের শহিদ রাজ্জাক পার্ক, কালেকটরেট চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, হাসপাতাল মোড় ও বাস টার্মিনালসহ পাঁচটি পয়েন্টে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ এবং জামায়াতুল মুজাহিদিন জেএমবির লিফলেট ছড়ানো হয়। সকালে এ ঘটনার পর বিকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বরে বোমাহামলাকারী শহরতলির বাঁকাল গ্রামের নাসিরউদ্দিন দফাদার প্রত্যক্ষদর্শীর দেখিয়ে দেওয়া মতে গ্রেফতার হন।

তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিক গিয়াসউদ্দিনসহ আরও অনেক আসামি একে একে গ্রেফতার হন। পুলিশ শহরের রসুলপুরে জেএমবির ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমান বোমার সরঞ্জাম জব্দ করে। গ্রেফতার হওয়া ১৩ আসামিকে ঢাকায় জেআইসিতে ( জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। এ সংক্রান্ত ছয়টি মামলার প্রতিটিতে সিআইডি পুলিশ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয় ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ।

এ মামলায় আসামীদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুজ্জান মুন্না, আনিসুর রহমান খোকন, মনোয়ার হোসেন উজ্জ্ব¦ল, মো. গিয়াসউদ্দিন, বিল্লাল হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, মসিউজ্জামান ওরফে মুকুল ডাক্তার, শামিম হোসেন গালিব ওরফে সাইফুল্লাহ, আবদুল আহাদ, আশরাফ মাষ্টার, আলমগীর হোসেন ওরফে আশা, মামুনুর রশীদ, ওবায়দুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম হাজারি, মাহবুবুর রহমান লিটন , মো. আসাদুজ্জান, মমতাজউদ্দিন, নুর আলি মেম্বর, ফখরুদ্দিন গাজি, আবুল খায়ের ও নাইমুদ্দিন। এর মধ্যে আবুল খায়েরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। পলাতক রয়েছেন কয়েকজন আসামী। এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর কারাগারে আটক অবস্থায় মারা যান আসামী নাসিরুদ্দিন দফাদার।

মীর খায়রুল আলম/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর