চট্টগ্রাম হালিশহর পোর্ট কানেক্টিং সড়েকের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মনছুর শপিং কমপ্লেক্স। তবে দৃশ্যমান শপিং কমপ্লেক্স শুধু সাইনবোর্ডে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভিতরে তার ছিটেফোঁটাও মিলছে না। শপিং কমপ্লেক্স বলতে আমরা যা বুঝি, বিভিন্ন রকমের দোকান। এর মধ্যে কাপড় জুতা সেন্ডেল জুয়েলারীসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের শো-রুম।
কিন্তু মনছুর শপিং কমপ্লেক্স শুধুমাত্র নামের শপিং কমপ্লেক্সে। কাজে রয়েছে একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দোকান ঘর। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, পলিথিন ও প্লাস্টিকের কারখানাসহ একাধিক নিষিদ্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
প্রত্যেকটি দোকান একটির সাথে অপরটি সংযুক্ত। সবকটি যেন বস্তির মত টিনের ঘর। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই নামের শপিং কমপ্লেক্সে।
পরিদর্শকালে জানা গেছে, গড়ে উঠা নামের মনছুর শপিং কমপ্লেক্সেটি মূলত রেলওয়ের জায়গা। রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট জায়গটি ১৪১টি শপিং
কমপ্লেক্স অর্ন্তভূক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করার নাম ভাঙ্গিয়ে লিজ নেন। এরপর মনছুর শপিং কমপ্লেক্স এর নাম উল্লেখ করে ঝুলিয়ে দেন নাম সর্বস্ব
সাইনবোর্ড। তবে শপিং কমপ্লেক্স সর্ম্পকিত কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না করে গড়ে তোলে কতগুলো নিষিদ্ধ ও অনুমোধনহীন কারখানা।
এসব কারখানা নিষিদ্ধ হলেও সরকারি সংস্থা গুলোর নাকের ডগায় চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা। নেই কোন ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ
অধিদপ্তরের ছাড় পত্র। তা হলে কিভাবে চলছে এই নাম সর্বস্ব শপিং কমপ্লেক্স? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেরিয়ে একাধিক ব্যক্তির নাম। তারা হলেন, এবিএম সৈয়দ আহমদ, জয়নাল আবেদীন, এনামুল হক, আবুল কালাম মিয়া, তছলিম চৌধুরী, শাহ আলম ভূইয়া, আবুল কালাম আজাদ ভূইয়া, মোশারফ হোসেন, খসরু মিয়া, দিপকংর বড়ুয়া, জামাল আহমদ ও মনছুর আহমদ।
তারা মূলত একটি সিন্ডিকেট। রয়েছে একটি কমিটি। যখন যাকে ম্যানেজ করতে হয়। তা করেন । পুরো এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ১৪১টি দোকানের কথা থাকলেও তার অধিক দোকান ও কারখানা করে চড়া দামে ভাড়া দিয়েছেন। শুধু এইখানে শেষ না । রেলওয়ে জায়গার পাশাপাশি সরকারি খাস জায়গা দখলের পায়তারা করছে। বর্তমান স্থিতিশীল দোকান ও কারখানা থেকে নানা উন্নয়নের কথা বলে লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ মসজিদ উন্নয়নের নামে ২৫ টি কাঁচা বাজার বরাদ্দ থাকার কথা। কিন্তু সাইনবোর্ডে কাঁচা বাজার বাস্তবে অবৈধ দোকান ও কারখানা দেখা গেছে।
এছাড়া মসজিদ উন্নয়নের কথা বলে খুঁয়ে নেন মোটা অংকের টাকা। মসজিদের মত র্স্পশকাতর জায়গায় কোন উন্নয়ন হয়নি। সবকিছু যেন ভাগ ভাটোয়ারার মধ্যে চলে যাচ্ছে।
নাম সর্বস্ব কমিটির সভাপতি এবিএম সৈয়দ আহমদ বলেন, মার্কেট না করার কারণ হচ্ছে বন্দরের নামে বিএস খতিয়ান এবং রেল এই ব্যপারে মামলা করেন। বন্দর ও রেলওয়ের আইনগত জটিলতার কারণে মার্কেট করা হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশের কার অনুমোদন আছে-নাই তা আমার জানা নেই। আমি এবং আমার কমিটি হার্ড লাইনে যায়নি।
রেলওয়ের কল্যাণ ট্রাস্টেও ডিডি সুলতান বলেন, রেলওয়ে স্টেট ডির্পাটমেন্টের থেকে রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট (আমরা) এই জায়গাটি লিজ নিয়েছি। এইখান থেকে যে লাভ হয় , তা কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য ব্যয় করি।
বার্তাবাজার/এসজে