পাকিস্তানে লাদেনের কারণে করোনা ভ্যাকসিন আতঙ্কের নাম

করোনা ভ্যাকসিন ও ওসামা বিন লাদেন! এই দুইয়ের মধ্যে অনেক ভেবেও সম্পর্ক তৈরি করা এই ২০২১ সালে আসলেই কঠিন। অনেকের কাছেই অসম্ভবও লাগতে পারে। কিন্তু যদি আপনি পাকিস্তানে যান তাহলে আপনার কাছে ব্যাপারটা অতোটা অসম্ভব আর কঠিন লাগবে লাগবে না। ইতোমধ্যেই করোনা প্রতিরোধী টিকাক্রণ শুরু করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। চীন থেকে পাকিস্তান ৫ লাখ করোনা ভ্যাকসিন এনেছে। কিন্তু টিকাকরণ শুরু হতে না হতেই ধাক্কা খেয়েছে। যার কারণ হলো ওসামা বিন লাদেন।

৯/১১-র মূলচক্রী ও করোনার টিকার কি সম্পর্ক? মার্কিন সেনা বাহিনী ২০১১ সালে অ্যাবোটাবাদে গভীর রাতে লাদেন-বধ করেছিল। সেই ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’-এর আগে পাকিস্তানে পোলিও টিকাকরণের এক ভুয়া কর্মসূচি চালানো হয়েছিল। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে আত্মগোপনকারী লাদেন সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রায় দশ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানি নাগরিকদের মনে সেই ঘটনা এখনও নাড়া দিচ্ছে।

‘ব্লুমবার্গ কুইন্টে’র দাবি, অনেকেই ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না করোনার টিকাকরণকেও। ফলে বেঁকে বসছেন তারা। শিশুদেরও টিকা নিতে দিতে চাইছেন না। আসলে সেই সময় থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরে এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়ে গিয়েছে ইসলামাবাদে, যা কাজ করছে এক্ষেত্রেও।
তবে এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। ‘ব্লুমবার্গ কুইন্টে’র ওই রিপোর্টেই বলা হয়েছে, শিশুদের পোলিও টিকা নিতে না দেওয়ার পক্ষে যে ভীতি কাজ করে অনেক সময়, এখানে সেটাও কাজ করছে। এর মধ্যে ‘মুসলিমবিরোধী’ চক্রান্ত দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই। অবিশ্বাসের জোড়া ফলায় তাই আক্রান্ত পাকিস্তানের টিকাকরণ কর্মসূচি।

এমনিতেও টিকা দেওয়া শুরুর আগে থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে সিনোফার্মের তৈরি ভ্যাকসিন। চীনের স্বাস্থ্যদফতরের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি এই সংস্থার ভ্যাকসিনকে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগেই কী করে তা ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে ইমরান প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলিও টিকাকরণের মতোই কঠিন হয়ে উঠছে পাকিস্তানে করোনার টিকাকরণ।

বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর