করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়ার প্রথম দুই দিনে কুড়িগ্রামে ১৩টি ভায়ালের ৩৬ ডোজ টিকা অপচয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিন ৭টি ভায়ালে ১৮ ডোজ এবং দ্বিতীয় দিন ৬টি ভায়ালে ১৮ ডোজ টিকার অপচয় হয়। এক ভায়ালে ১০ জন করে টিকা নেওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রেশন করা) ব্যক্তিরা উপস্থিত না হওয়ায় খোলা ভায়ালগুলোর ডোজ নষ্ট হয়। সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত দুই দিনে জেলার ৯ উপজেলার ৯ বুথে মোট ৭০৪ জন করোনাভাইরাস প্রতিরোধী এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন সদর উপজেলার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল বুথে, ২০২ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার নয় উপজেলায় নিবন্ধনধারীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রথমদিন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে টিকা নেন ৬৫ জন। গত দুই দিনে এই বুথে টিকা নিয়েছেন মোট ২০২ জন। এরপরই দ্বিতীয় সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ টিকা নিয়েছেন রাজারহাট উপজেলায়, ১০৮ জন।
এছাড়াও রাজীবপুরে ৩৬ জন, রৌমারীতে ৫৫ জন, উলিপুরে ৭০ জন, নাগেশ্বরীতে ৭০ জন, ভূরুঙ্গামারীতে ৫৪ জন, ফুলবাড়ীতে ৬৩ জন এবং চিলমারীতে ৪৬ জন টিকা নেন। গত দুই দিনে ৭০৪ ভ্যাকসিন গ্রহীতার মধ্যে পুরুষ ৫৭৭ এবং নারী ১২৭ জন। তবে গত দুই দিনে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য জেলায় ৪ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিনের শেষ ভায়ালটি খোলার পর ৭ জন টিকা নিয়েছেন। রেজিস্ট্রেশন করার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বুথে না আসায় অবশিষ্ট তিন ডোজ টিকা অপচয় হয়েছে।
ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা হবে, স্বাভাবিক। দশ ভাগ টিকা অপচয় হতে পারে। তবে ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের সংখ্যা বাড়লে এই অপচয়ের মাত্রা আরও কমে যাবে।’ রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এসএমএসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করেও বুথে আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে বলে জানান এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।
সিভিল সার্জন জানান, একটি ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা থাকে। দিন শেষে যে ভায়ালটি উন্মুক্ত করা হয় সেটার ১০ ডোজ পূর্ণ করা না গেলে অবশিষ্ট ডোজ টিকা আর সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে অবশিষ্ট ডোজ অপচয় হয়।
তিনি বলেন, ‘উচ্চ মূল্যে কেনা এসব টিকার ডোজ যাতে কোনও ভাবে নষ্ট না হয় আমরা সে ব্যাপারে সচেতন থাকলেও রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তিরা বুথে না আসায় কিছু ডোজ টিকা অপচয় হচ্ছে। তবে সেটা যাতে ন্যূনতম পরিমাণ হয় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।’
‘সংশ্লিষ্ট দিনে নিবন্ধনধারী ও এসএমএস প্রাপ্ত যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ে বুথে আসছেন না আমরা তাদের ফোন দিচ্ছি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অনেকেরই ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তখন আমাদের আর করণীয় থাকছে না।’ যোগ করেন সিভিল সার্জন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের টাকায় সরকারিভাবে কেনা উচ্চমূল্যের এসব ভ্যাকসিনের অপচয় রোধে রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তিদের টিকা বুথে উপস্থিত হওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প করণীয় নির্ধারণ করা জরুরি।
সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/এসজে