যমুনা সার কারখানায় খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার টন সার

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় আমদানিকৃত হাজার হাজার মেট্টিন টন সার খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। ফলে রোদে পুড়ে ও কুয়াশায় ভিজে নষ্ট হচ্ছে সারগুলো।

এদিকে বস্তা ফাঁটা ও নষ্ট-পঁচা সার ডিলারদের নিতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ডিলাররা একাধিকবার সার উত্তোলন বন্ধ করে প্রতিবাদ করলেও কোন প্রতিকার না পেয়ে টানা দুইদিন ফের তারা ধর্মঘট পালন করে। এতে চলতি মওসুমে কারখানার কমাণ্ড এরিয়ায় সার নিয়ে নাজেহালে পড়তে পারে কৃষক।

সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিসিআইসি’র তালিকাভূক্ত ডিলারদের যমুনা সার কারখানা থেকে প্রতি ট্রাকে ১২ মে. টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে কারখানার উৎপাদিত ১১ মে. টন ও বাইরে (কাফকো) থেকে আমদানিকৃত এক মে. টন সার গ্রহণ বাধ্যতামুলক করে কারখানা কতৃপক্ষ। আমদানিকৃত সারগুলো দীর্ঘদিন ধরে গুদামের বাইরে খোলা আকাশের নিচে স্তুপ করে রাখার ফলে সারগুলো রোদে পুড়ে ও কুয়াশায় ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া সারের বস্তা দীর্ঘদিনের পুরনো, ছেঁড়া-ফাঁটা, জমাটবাধাঁ, গলিত ও পঁচা থাকায় এসবের গুণগত মান নেই। তবুও এসব নিতে বাধ্য করায় ডিলাররা রবিবার দিন ব্যাপি কারখানার মূল গেটের সামনে বিক্ষোভ করে।

তারাকান্দি ট্রাক ও ট্যাংকলড়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মানিক বলেন, আমদানিকৃত এক মে. টন সার জমাটবাধাঁ ও গলিত, যা কৃষকের কাছে বিক্রির অযোগ্য। প্রত্যেক ডিলারের গুদামে আমদানিকৃত সার আটকা পড়ে গেছে। ফলে প্রতি ট্রাকে ১৬ হাজার টাকা লোকসান খেতে হচ্ছে ডিলারদের। প্রতিকারের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে কারখানার কমাণ্ড এরিয়ার ১৯ জেলার ডিলাররা সার উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া রবিবার দিনব্যাপি বিক্ষোভ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার বিক্রয় বিভাগের ইনচার্জ ওয়ায়েছুর রহমান বলেন, কারখানায় বাইরে থেকে আমদানিকৃত ২১ হাজার মে. টন ও যমুনার উৎপাদিত ৬২ হাজার মে. টন সার বর্তমানে মজুদ রয়েছে। ডিলারদের জন্য বরাদ্ধকৃত ১২ মে. টনের মধ্যে যমুনার ১১ মে. টন ও আমদানিকৃত এক মে. টন সার গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু আমদানিকৃত সার নিম্নমান বলে অভিযোগ করে ডিলাররা সার উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর একই কারণে ডিলাররা সার সরবরাহ বন্ধ করেছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষ দাবি মানার আশ্বাস দিলে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। পুণরায় কর্তৃপক্ষ একই কাজ করায় ডিলাররা ফের শনি ও রবিবার সার উত্তোলন বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করে। এতে উত্তরা লের ১৯ জেলায় সার সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি মানার আশ্বাস দিলে সোমবার থেকে সরবরাহ চালু হয়েছে। তবে আশ্বাসটি মিথ্যা না বাস্তব হয় তা-ই দেখার অপেক্ষা ডিলার ও ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।

মোস্তাক আহমেদ মনির/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর