রোববার ৭ (ফেব্রুয়ারি) ভোরে এক হিমবাহের বাঁধের ধাক্কায় উত্তর ভারতে প্রায় দেড় শতাধিক লোক মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হিমবাহ ভেঙে যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সেই বন্যার পানির স্রোত থেকে গ্রামের মানুষগুলো সরিয়ে নিতে হয়েছে।
উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মুখ্য সচিব ওম প্রকাশ বলেন, ‘মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ১০০ থেকে দেড়শ লোক মারা যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে।’
একজন প্রত্যক্ষদর্শী কতৃক জানা যায়, হিমবাহটি গর্জন করে ভেঙে দ্রুত আসছিল কাউকে সতর্ক করার সময় ছিল না। এমনকি আমি অনুভব করেছি যে আমরা ভেসে যাব।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করেছিল যে নিকটস্থ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা লোকেরা ভেসে গেছে। আর যারা নদীর পাশে কাঠ কুড়াচ্ছিল বা গবাদি পশু চরাচ্ছিল তাদের অনেকই এখনও
নিখোঁজ রয়েছে। কত লোক নিখোঁজ রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই।
এ ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে লিখেন, “উত্তরাখণ্ডের প্রত্যেকের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ভারতের বিমান বাহিনী উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালোনা করছেন। এছাড়া তিনি আরো লিখেন উত্তর দেবতার দেশ সেখানে অসংখ্য হিন্দু মন্দির এবং তীর্থস্থান রয়েছে।
উত্তরাখণ্ডে ২০১৩ সালের জুনে, রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। ওই বন্যায় প্রায় ৬০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল।
এই বিপর্যয়টি হিমালয়ান সুনামি হিসাবে গণমাধ্যম দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে বন্যার পানির স্রোতের কারণে, যা কাদামাটি এবং শিলা ভেঙে পড়েছিল, ঘরবাড়ি পুঁতে গেছে এবং বিল্ডিং, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ ভেঙে গেছে। নদীর পানির স্তর এখন স্বাভাবিক থেকে এক মিটার উপরে হলেও প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, তিনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম