সুন্দরবনে বেপরোয়া শিকারি চক্রের সদস্যরা

বিশ্বের ঐতিহ্য সুন্দরবনে শিকারি চক্রের সদস্যরা হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া। তারা একের পর এক নিধন করছে বনের পশুদের। তারা ফাঁদ পেতে, গুলি করে এবং বিষের টোপ দিয়ে বাঘ ও হরিণ হত্যা করছে। এলাকাবাসী এসব বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধ করতে তাদের শাস্তিসহ তাৎক্ষনিক ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

সুন্দরবনে শিকারি চক্রের আধিপত্ত সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বনসংলগ্ন গ্রামবাসী থেকে জানা যায়, শিকারিদের গডফাদার রয়েছে। কেউ কেউ আবার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চলে। শিকারিরা মাঝেমাঝে জেলের বেশ ধারণ করে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। বনজসম্পদ রক্ষা করতে হলে এখনই তাদের চিহ্নিত করে দমন করতে হবে।

সূত্র থেকে জানা যায়, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড এবং সুন্দরবন বিভাগ ১৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই সপ্তাহের আলাদা অভিযানে বন থেকে শিকার করা ১১১ কেজি হরিণের মাংস, ১৯টি হরিণের চামড়া ও একটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছে। এ সময় শিকারি ও পাচারকারী চক্রের নয় সদস্যকে আটক করা হয়। তবে সবাই ধরা না পড়ায় জানার উপায় নেই সুন্দরবনে কী পরিমাণ বন্যপ্রাণী নিধন করা হচ্ছে।

পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, ২ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাগেরহাট গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রামপাল উপজেলার বগুড়া নদীর চর থেকে ৪২ কেজি হরিণের মাংসসহ শিকারি চক্রের সদস্য বাবা ও ছেলেকে আটক করে। এর আগে ২৯ জানুয়ারি রাতে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা মোংলা উপজেলার দিগরাজ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৭ কেজি হরিণের মাংস এবং একটি মাথাসহ তিনজন হরিণ শিকারি ও পাচারকারীকে আটক করে। ৩০ জানুয়ারি রাতে বন বিভাগ শরণখোলা থেকে ২২ কেজি হরিণের মাংসসহ এক শিকারিকে আটক করে। ২৩ জানুয়ারি ভোরে জেলা ডিবি পুলিশ শরণখোলা উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯টি হরিণের চামড়াসহ হরিণ শিকারি ও পাচারকারী সিন্ডিকেটের দুজনকে আটক করে।

এছাড়াও ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সুন্দরবন বিভাগ ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে শরণখোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাঘের চামড়াসহ বাঘ শিকারি চক্রের সদস্য গাউস ফকিরকে আটক করে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, বিগত সাত মাস ধরে সুন্দরবন পার্শ্ববর্তী শরণখোলা, রামপাল, মোংলা এবং মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ প্রতিদিন সুন্দরবনে অভিযান পরিচালনা করছে। বনের সম্পদ রক্ষা করতে পুলিশ নানাভাবে কাজ করছে। পুলিশের অভিযানে ১০ দিনের ব্যবাধনে ৪২ কেজি হরিণের মাংস, ১৯টি হরিণের চামড়া, হরিণ শিকারের এক বস্তা ফাঁদ এবং শিকারি ও পাচারকারি চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।

সূত্র : ইউএনবি

বার্তাবাজার/ভি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর