করোনা ভ্যাকসিনে ভূমিকা রাখতে চায় চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল গুলো কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। এখনও এর ধারাবাহিতা অব্যাহত রেখেছেন। এবার করোনার পর ভ্যাকসিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি চট্টগ্রামের স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতাল মালিকের। তাদের মতে ভ্যাকসিন সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও দেওয়ার ব্যবস্থা করলে দ্রুত চট্টগ্রামবাসী ভ্যাকসিন নিতে পারবে।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম ক্লিনিক মালিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াকত আলি খাঁন বলেন, চট্টগ্রামে করোনা মোকাবেলা করেছে একমাত্র বেসরকারি হাসপাতাল গুলো। বর্তমানে যেসব করোনা রোগী রয়েছে, তার মধ্যে ৮০ভাগ বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে।

ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন না আসার আগে কত কথা। ভ্যাকসিন আসবেনা। আসতে অনেক সময় লাগবে। এখন যখন ভ্যাকসিন এসেছে, আসছে অন্য কথা। একটি প্যারাসিটামলেরও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এতে ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই। তবে সাধারণ জনগণকে সাহস যোগাতে প্রথমত ডাক্তার রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনদের ভ্যাকসিন গ্রহন করা দরকার। তা দ্রুত প্রচার করে মানুষের মন থেকে ভীতিটা দূর করতে হবে।

এছাড়া হাজার লাখের মধ্যে কারো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা যাতে প্রচার না হয় তার দিখেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কারন একজনের জন্য বাকিরা ভয় পাবে। নগরীর অত্যান্ত স্বনামধন্য হাসপাতাল পার্ক ভিউ হাপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, করোনার শুরুতে অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের মত পার্ক ভিউ কি ভূমিকা রেখেছে তার স্বাক্ষী নগরবাসী। চট্টগ্রামের মন্ত্রী মেয়রসহ যেসব ভিআইপি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে সেসব ভিআইপিরা পার্ক ভিউ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়েছে।

করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল একটু গা ছাড়া ভাব যদি দেখাত। তা হলে সরকারি হাসপাতালের পক্ষে সামাল দেওয়া কোনদিন সম্ভব হতনা। করোনা মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল খোলা হয়েছিল। পরে রোগীর অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের আস্তা যেখানে, সেখান থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে অভ্যস্ত। নগরীর কোন হাসপাতালের করোনা ইউনিট এক মুহুর্তের জন্য একটি বেডও খালি ছিল না।

করোনা মোকাবেলায় যেমন আমরা ভূমিকা রেখেছিলাম। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই। চট্টগ্রামের অপর স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতাল ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোঃ ইউসুফ বলেন, করোনার শুরু থেকে এই পর্যন্ত চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালের যথাযথ ভূমিকা ছিল বলে চট্টগ্রামের মধ্যে করোনা রোগীর মৃত্যুর হার অত্যান্ত কম। ন্যাশনাল হাসপাতাল অনেক সময় করোনা ইউনিটের বাইরেও বাধ্য হয়ে করোনা রোগী ভর্তি নিয়েছে। করোনার ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে মানুষের ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই। ভ্যাকসিন হচ্ছে টিকা। আমরা ছোট বেলায় যেমন টিকা নিয়েছি। এখনও তা।

তিনিও বলেন, সর্বপ্রথম ডাক্তার রাজনৈতিকসহ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আর সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি রাখেন তিনি। চট্টগ্রামের জনপ্রিয় ম্যাক্স হাসপাতালের জনপ্রিয় ডাক্তার অধ্যাপক এম.এ রউফ বলেন, করোনা মোকাবেলায় প্রথম সাড়ির যোদ্ধা ছিলাম আমরা। আমাদের সাথে চিকিৎসা সেবার সংশ্লিষ্ট বয় নার্স থেকে সকলে একসাথে মোকাবেলা করায় অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রের চেয়ে আমাদের দেশে মৃত্যুর হার খুবেই কম। এখনো আমরা একউ নিয়মে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। জীবনের মায়া ত্যাগ করে এক মুহুর্তের জন্য সড়ে দাঁড়াইনি। মানুষ সৃষ্টি কর্তার পর ডাক্তারের উপর ভরসা রাখে। তাই আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে সড়ে দাঁড়াতে পারিনা। করোনার প্রথম ঢেউয়ে মানুষের মধ্যে যখন অনেক ভয় কাজ করছিল।

তখন মানুষ হাহাকার করেছিল কখন ভ্যাকসিন আসবে। আর এখন যখন ভ্যাকসিন এসেছে ভয় পাচ্ছে। এইটা একটি টিকা। প্রত্যেক টিকা ও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে। করোনার ভ্যাকসিনেও থাকতে পারে। এতে ভয় পাওয়ার কোন কিছুই নেই। ভয় এড়াতে সর্বপ্রথম আমাদের ভ্যাকসিন গ্রহন করে দেখাতে হবে। এইখানে ভয়ের কোন কিছুই নেই। ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে সরকারি হাসপাতালে। তবে বেসরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা করতে হবে। কারন সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডাক্তার ফজলে রাব্বী বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে চট্টগ্রামে ভ্যাকসিন দেওয়া আরম্ভ করব। আপততে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) এ ৪ টি ও জেনারেল হাসপাতালে ৪টি ভুত প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রথমদিন ১০০জন টার্গেট করা হয়েছে। তবে রেজিস্ট্রেশন কয়জন করছে তার উপর নির্ভর করছে। প্রথম ভ্যাকসিন নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে শিক্ষ উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও আ.লীগের প্রসেডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। বেসরকারি হাসপাতালেরও ভ্যাকসিন নেওয়ার আগ্রহ প্রসঙ্গে বলেন, তা সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রেশনের উপর নির্ভর করবে।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর