আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে আসন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর নির্বাচন। পৌরসভার রাস্তাঘাট, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা এখন মাইকিং মিছিল ও স্লোগানমুখর । ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়িতেও এখন আলোচনার বিষয়ের কেন্দ্রবৃন্দ শুধু পৌর নির্বাচন। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন তাদের নির্বাচনী এলাকার মানুষদের কাছে কাছে। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও আওয়ামীলীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি সমানভাবে চালাচ্ছেন উঠান বৈঠক ও মাইকিং।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা ব্যক্ত করে বর্তমান মেয়র বলেন, আমি মেয়র থাকাকালীন পৌরসভাকে বি-গ্রেড থেকে এ-গ্রেড পৌরসভায় উন্নীত করেছি। পাড়ায় পাড়ায় রাস্তা ও ড্রেন হয়েছে। অসহায় লোকজন পেয়েছেন বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড। দেয়া হয়েছে মাতৃত্বকালীন ভাতা। বিশেষ করে শহরের সড়কে রাতে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। পৌরবাসী পেয়েছেন সুন্দর আধুনিক পৌর শহর। জমির মূল্য বেড়েছে কয়েকগুণ। জলাবদ্ধতা কমেছে। নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার হচ্ছে। মেয়র হিসেবে করোনাকালীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। পৌরবাসীর ঘরে-ঘরে পৌঁছে দিয়েছি চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এখন ১কোটি ২০লাখ টাকা ব্যায়ে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ চলমান রয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা কাকে তারা আবার মেয়র বানাবেন।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন আব্দুর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মত বিরোধ থাকায় তেমন একটা প্রচার প্রচারণায় দেখা মিলেছে না। তবে তিনি বলেন, ভোটারা যদি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে সুষ্ঠু ভাবে ভোট দিতে পারেন তাহলে আমি নিশ্চয় জয় লাভ করব।
এইদিকে পাশাপাশি সমান ভাবে প্রভারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী।
একইভাবে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন কাউন্সিলর ও মহিলা প্রার্থীরাও। সবাই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন।
আগামী ১৪ ফেব্রয়ারী ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আখাউড়া পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, কাউন্সিলর পদে পুরুষ ৩৮ জন এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আখাউড়া সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ জহুরুল আলম বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে আখাউড়া পৌর নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। আশা করি সকল ধরনের নির্বাচনী আচরণব্যাধী মেনেয় প্রচারণা চালাবেন প্রার্থীরা।
উল্লেখ, আখাউড়া পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৪ হাজার ৬৭৯ ও পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ২৩১ জন। ৯ ওয়ার্ডে ১১টি কেন্দ্র মধ্যে দিয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে।
পারভেজ/বার্তাবাজার/ভি.এস