শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা: বিভিন্ন মেয়াদে ৫০ আসামির সাজা

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় হামলা মামলায় আদালত সাতক্ষীর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আরিফুর রহমান ও রিপনকে ১০ বছর মেয়াদসহ ৫০জনকে বিভিন্ন মেয়াদী সাজা দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. হুমায়ুন কবীরের আদালতে এই রায় ঘোষণা করে।

কারাগারের আসামিরা হলেন- সাতক্ষীরা ১ আসনের সাবেক এম.পি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মো. আব্দুল মজিদ, মো. হাসান আলী, মো. আক্তারুল ইসলাম, শেখ কামরুল ইসলাম, ইয়াছিন আলী, মাহাফুজুর মোল্লা, আশরাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সাত্তার, মো. সাহেব আলী, নজরুল ইসলাম, মো. আব্দুর রাজ্জাক, শেখ তামিম আজাদ মেরিন, শাহিনুর রহমান, আব্দুস সামাদ, মো. আব্দুস সাত্তার, আব্দুল গফফার গাজী, মো. আব্দুর রকিব মোল্যা, মো. আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সামাদ, তোফাজ্জেল হোসেন সেন্টু, গোলাম রসুল, সোহাগ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, ময়না, মো. জহুরুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন, রকিব, ট্রলি শহীদুল, মো. মনিরুল ইসলাম, শেলী, দিদার মোড়ল, রিঙ্কু, টাইগার খোকন ওরফে বেড়ে খোকন।

এদিকে পলাতক আসামি রয়েছে রবিউল ইসলাম, খালেদ মঞ্জুর রোমেল, মাজাহারুল ইসলাম, আব্দুর রব, জাবিদ রায়হান লাকী, মো. মাহাফুজুর রহমান, নাজমুল হোসেন, সঞ্জু, আব্দুল কাদের বাচ্চু, কণক, মফিজুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, আরিফুর রহমান, রিপন, ইয়াছিন আলী, আব্দুল খালেক।

প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে। সেখান থেকে যশোরে ফেরার সময় উপজেলার বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাস রাস্তার ওপর আড়াআড়ি থামিয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি ও তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নির্দেশে গাড়িবহরে হামলা চালায়। ঘটনার ২পর থানায় মামলা না নেওয়ায় কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেমউদ্দিন বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৭০/৭৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে।

মামলাটি বিভিন্ন আদালত ঘুরে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪
সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শফিকুর রহমান ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৭ সালে আসামি পক্ষ মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত করে। দীর্ঘ তিন বছর পর আসামি পক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে মামলা ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেন। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে
উপরোক্ত রায় প্রদান করা হয়।

এদিকে, ঐতিহাসিক রায় ঘোষনা কেন্দ্র করে কোর্ট চত্তর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা আনন্দ মিছিল প্রদক্ষিণ শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

মীর খায়রুল আলম/বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর