চট্টগ্রাম বিমানবন্দর মুখী সড়কে ‘মৃত্যু ঝুঁকি’, খসে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটির পলেস্তারা
বৈদ্যুতিক খুঁটির পলেস্তারা খসে পড়ে দৃশ্যমান রড। রয়েছে যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা। এক প্রকার ঝুঁকি নিয়েই খুঁটির পাশ ঘেষে চলাচল করছে পথচারীরা, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহনও। বৈদ্যুতিক খুঁটির এমনই বেহাল চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং-বিমানবন্দরগামী ১ নম্বর ভিআইপি সড়কে।
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিমেন্টক্রসিং থেকে বিমানবন্দরগামী ভিআইপি সড়কের ডানপাশে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্মিত ওয়াকওয়ে। সেই ওয়াকওয়ের পাশ ঘেষেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ২০-২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। যার মধ্যে ১৬তম খুঁটিটির অবস্থা একেবারেই নাজেহাল।
খুঁটিটি কেবলই দাঁড়িয়ে আছে রডের ওপর ভিত্তি করে৷ খুঁটির নিচের দিকের পলেস্তারা গাড়ির ধাক্কায় ৭০ শতাংশ ভেঙ্গে গেছে। যার ফলে খুঁটির মধ্যকার রড দৃশ্যমান হয়ে আছে এবং অনেকটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। অথচ, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে সহস্রাধিক যানবাহন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গরাও এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন বিমানবন্দরে যাতায়াত করেন।
এই খুঁটির ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার কিলো ভোল্টের বিদ্যুৎ চলাচল করছে৷ আর খুঁটির হাল যে রকম, যেকোনো সময় সাধারণ মানুষ বা গাড়ি চালকরা দুর্ঘটনার মুখে পড়তে পারে৷ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নিলে দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় নিবে কে?-প্রশ্ন স্থানীয়দের।
স্থানীয় মো. মঞ্জুর আলম নামে এক পথচারী বার্তা বাজারকে বলেন, আমরা প্রায়ই এই ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে যাই। আল্লাহ না করুক কখন কোন দুর্ঘটনার শিকার হই সেটা নিজেও জানিনা। এখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মনে অজানা এক আতঙ্ক বিরাজ করে।
কবির আহমেদ বিজয় নামে এক কলেজছাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বার্তা বাজারকে বলেন, প্রায়ই আমরা বন্ধুবান্ধব মিলে ওই সড়কের ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে প্রাতঃভ্রমণে বের হতাম। কিন্তু এখন আমরা ভয়েও যেতে পারিনা। কারণ ওই সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় ভাঙ্গা ও বিপদজনক খুঁটি দেখে এখন ভয় হয় যেতে।
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামে এক স্থানীয় বার্তা বাজারকে বলেন, এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং উদাসীনতা আমাদেরকে মর্মাহত করে। এই খুঁটির অবস্থা দেখে বিবেকবান কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশে বিদ্যমান আছে বলে মনে হয়না। এই গাফিলতি শুধু বিদ্যুৎ বিভাগকে নয়, এই সড়কে চলাচলরত প্রশাসনিক সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের ধিক্কার জানাই এই ধরণের বিবেকহীন কর্মকাণ্ডের জন্য।
তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বার্তা বাজারকে বলেন, এ খুঁটি দেশ ও দশের নয়, নিজের ঘরের খুঁটি মনে করে যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করা হোক।
এবিষয়ে জানতে হালিশহর ও নিউমুরিং বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তা বাজারকে বলেন, ওটা হয়তোবা যেকোনো গাড়ি এসে ধাক্কা-টাক্কা দিছে। আমরা গিয়ে দেখে এসেছিলাম গতকাল। এই কারণে হয়তো খুলে গেছে। এমনি পিলারটা পড়বে না। ওভাবে থাকবে। আর আমরা ওটা ডিসবেন্ডি করে ফেলবো। একটা পিলার তো সড়ানো যাবে না। আমরা সব পিলারগুলোই সড়িয়ে ফেলবো।
স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে বার্তা বাজারের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওটা ডেডলাইন, ওটায় কোনো বিদ্যুৎ নাই। ওই লাইনটাই আমরা ডিসবেন্ডিং করে ফেলবো। আর ওটা পড়বেও না। ওটা ওপরের কেবলের টেনশনে আটকে আছে। ওটা পড়ার সুযোগ নেই।
দুর্ঘটনা ঘটতে কতক্ষণ?—এই কথা মনে করিয়ে দেওয়ার পরই তিনি আবার বার্তা বাজারকে বলেন, হ্যাঁ, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এরকম অনেক পিলার গাড়ি ধাক্কা দিয়ে ভেঙ্গেও ফেলছে। ৩০-৪০% ড্যামেজ ওটা। যাই হোক, এটা আমি দ্রুতই করে ফেলবো। হয়তো এই মাসের ভেতরেই করে ফেলবো।
ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তিনি বার্তা বাজারকে বলেন, আমরা এখন যেটা করতেছি—পতেঙ্গা সী-বীচ এলাকায় কোনো পর্যটক গেলে বিদ্যুতের পোল দেখবে না। আমরা সেই প্লানিং করছি। মাটির নিচ দিয়েই ওদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে। আমরা যত সম্ভব সৌন্দর্য বর্ধনের চেষ্টা করছি। আর এতে ঝুঁকিও কমবে।
রবিউল হোসেন রবি/বার্তাবাজার/এ.আর