পাউবো’র বেহাল দশা, সন্ধ্যা হলেই অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর আবাসিক ভবনগুলো যে যার মতো করে দখল নিয়ে বসবাস করছেন। ভবন জুড়ে ছেড়ে গেছে লতাপাতা ও ঝাড়-জঙ্গলে। সন্ধ্যা হলেই রাত-ভোর পর্যন্ত অপরাধীদের স্বর্গ রাজ্য হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভবনগুলো অযন্তে অবহেলায় পরিতক্ত্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের চারপাশ দুর্গন্ধময় ময়লা-আবর্জনা, ফেন্সিডিলের বোতল, ইঞ্জেকশনের সিরিজসহ অংখ্য ব্যবহৃত জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্যাকেট পড়ে আছে। হঠাৎ যে কারো দেখে মনে হবে, পাউবো যেন গণশৌচাগার, মাদকসেবীদের আসর, ছিনতাইকারীদের আস্তানা ও পতিতাখানা। ভবনের চারপাশে ঝাড়- জঙ্গল ও সংস্কারের অভাবে ভবনের দেয়াল ও নষ্ট হয়ে গেছে। হাত দিলেই যেন পলেস্টার খসে পড়ার মতো অবস্থা। আর আবাসিক ভবনগুলো যে যার মতো দখল নিয়ে বসবাস করছেন। এ চিত্র দেখে বোঝার কোন উপায় নেই যে এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।

রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) ভবন গুলো দখল করে গরুর খামার। ছবি- বার্তা বাজার

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত এই ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোন সরকারি অফিসার এখানে ঢু মারতেও আসেনা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই পুরো এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় ভয়ে কেউ ঢুলকিও মারতে আসেনা। প্রতি রাতেই বসে মাদক ও জুয়ার আসর। আর কিছু প্রভাবশালী যুবক রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত মানুষদের ধরে নিয়ে এসে মালামাল লুট-মারাপিট করে ছেড়ে দেয়। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা হয় পতিতা। আবাসিক ভবনগুলো সব দখল করে যে যার মতো করে বসবাস করছেন। বিদ্যুৎ ও লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চলে অসামাজিক কার্যকালাপ। কিছু বললেই দেয় হুমকি।

নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই একটি প্রভাবশালী মহল এখানে মাদক, ছিনতাই, জুয়া, অসামাজিক কার্যকালাপের মতো জঘন্যতম কাজ করে। আমরা এলাকাবাসী ভয়ে দিন যাপন করছি। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইনা। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি যাতে এই ভবন গুলোতে একটু অভিযান চালায়। সেই সাথে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড’র অফিসগুলো সংস্কার ও আবাসিক ভবনগুলো দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করে যেন পুনরায় চালু করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক বাবু বলেন, রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড’র ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আমার ইউনিয়ন পরিষদ ট্যাক্স পাই। সেখানে খারাপ কাজ করা হয় সেটা এলাকাবাসী আমাদের অভিযোগ দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার বলা হয়েছে ভবনগুলো মেরামত করার জন্য।

এ প্রসঙ্গে রুহিয়া থানার ওসি চিত্ররঞ্জন কুমার রায় বলেন, আমি ৩-৪ দিন আগে সেখানে গিয়েছিলাম। যা দেখেছি তাতে আমার কাছে সবকিছু নরমাল মনে হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রবিউল ইসলাম বলেন, জনবলের অভাবে এই ভবনগুলো পড়ে আছে। আর দেখভালের জন্য দু’একটি ভবন স্বল্পমূল্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর