উপজেলায় মুশুলী-সিংরইল সড়ক ইটভাটার মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ ট্রাক্টরের চাকার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। এর ফলে ধুলায় ঢেকে গেছে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ ফসলের মাঠ। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহনের চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মুশুলী থেকে সিংরইল বাজার হয়ে সড়কটি নান্দাইল-হোসেনপুর সড়কে মিশেছে। সড়কটি দিয়ে মুশুলী, সিংরইল ও আচারগাঁও ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করে। গত দুই বছর আগে আচারগাওঁয়ের জামতলা থেকে কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পাকা করা হয়েছে। আর কামালপুর থেকে মুশুলী পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তার উপর এই সড়ক দিয়ে গত চার মাস ধরে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সড়কটি এখন মাটি বুঝাই ট্রাক্টরের চাকার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে।
মাটি টানার কাজে ব্যবহৃত এসব ট্রাক্টর চলাচলে এলাকার লোকজন বাধা দিলেও কোন কাজে আসছে না। সরজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, মাটি ও ইট বহনকারী ট্রাক্টর ভাঙ্গা সড়কে দাফিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সময় সড়কটির বেশির ভাগ অংশে কার্পেটিং বা ইট চোখে পড়েনি। খোয়ার সঙ্গে বালু মিশে পুরো সড়ক লাল হয়ে আছে। কোনো যানবাহন চলাচল করলেই ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। এসময় কিশোরগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে মুশুলী-সিংরইল সড়কে আসা ইজিবাইক চালক সুজন মিয়া গাড়ি থামিয়ে বলেন, ‘আগে জানলে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দিলেও এই রাস্তায় আইতাম না। একটু ভালো কইরা লেইখেন ভাই, যাতে সড়কটার একটা গতি হয়।’ মুশুলী গ্রামের বাসিন্দা ডিস ব্যবসায়ী ফরহাদ উদ্দিন বলেন, মাটি ও ইট বহনকারী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটির এই হাল।
দীর্ঘদিন ধরে এভাবে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। একই গ্রামের বাসিন্দা মুশুলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙির আলম বলেন, ভাঙাচোরা সড়কে দিন-রাত মাটি বুঝাই ট্রাক্টর চলাচলের কারণে আমাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ধুলার কারণে সড়কের দুই পাশের বাসিন্দাদের বাড়িঘরে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ধুলার প্রভাব এতটাই যে পুকুরের পানি পর্যন্ত কর্দমাক্ত হয়ে যায়। পাছমুশুলী গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রায় সময় আমরা গাড়ী আটকে রাখলেও প্রশাসন হস্তক্ষেপ না করায় কোন কাজে আসছে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর ফারুক জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তায় ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি নেওয়ার কারণে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এজন্য মাসুম মিয়া নামে এক মাটি ব্যবসায়ীর সাথে রাস্তা ভাঙার বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। এরপর সেই মাটি ব্যবসায়ী সংস্কারের জন্য কিছু মাটি ফেলেছেন। কিন্তু এতে আরও ধুলা বেড়ে গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আলামিন সরকার বলেন, আমরা চাই যাতে এই ধরনের মাটি বুঝাই ভারি যানবাহন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল না করে। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। দ্রুত রাস্তাটি সর্ম্পকে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদ উদ্দিন বলেন, সড়কে ট্রাক্টও দিয়ে ইটভাটার মাটি ও ইট পরিবহন নিষেধ। ট্রাক্টরে মাটি বহন বন্ধে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বার্তাবাজার/পি