নোয়াখালীর মানুষ একরাম বাহিনির হাতে জিম্মি: কাদের মির্জা

নোয়াখালীর অপরাজনীতি, সন্ত্রাসী ও চাকুরী বানিজ্যসহ সকল প্রকার অপকর্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় আমার বিরুদ্ধে সকল প্রকার ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ মিডিয়া থেকে দূরে সরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন বসুরহাট পৌরসভায় সদ্য বিজয়ী আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

সোমবার (১লা ফেব্রুয়ারী) সকালে বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একান্ত সাক্ষাতকারে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এসব কথা বলেন।

এসময় কাদের মির্জা বলেন, সোমা ইসলামের পরিচালনায় “টু দ্যা পয়েন্ট” অনুষ্ঠান থেকে আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে। আজ DBC চ্যানেলের রাজকাহনে আমার আলোচনা ছিলো পরে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। এসব কারা করছে? কেনো করছে? তা আমার জানা আছে। আমি এসব নিয়ে চিন্তিত নই। আমি আমার আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এসময় তিনি নোয়াখালীর অপরাজনীতির বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, আমি এক মাসের সময় দিয়েছি, এই সময়ের মধ্যে নোয়াখালীর অপরাজনীতির বিষয়ে যদি সিদ্ধান্ত না হয় আমি আবারো আমার নেতা কর্মীদের নিয়ে মাঠে নামবো। বঙ্গবন্ধুর এই সংগঠন পথহারা হয়ে যাবে তা কখনো মেনে নেয়া যায়না। এই সংগঠনের জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি, ১৮টি মামলা ও জেল-জুলুমসহ শিবিরের ক্যাডারদের হাতে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছি। আমি সোনার চামুচ নিয়ে পৃথিবীতে জন্মাইনি, অনেক কষ্ট করে সংগ্রাম করে রাজনীতি করেছি। দলের জন্য আমাদের অনেক ত্যাগ আছে, এভাবে দলেকে ধ্বংস হতে দেয়া যায়না।

ফেনী, চৌমুহনী, হাতিয়ার নির্বাচনের প্রশ্নে কাদের মির্জা বলেন, ফেনী ও হাতিয়ায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে যা আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন। কিন্তু চৌমুহনী নির্বাচনে আমি অনিয়ম করতে দেইনি। আমি নির্বাচনের পূর্বে কঠোর ভাবে ডিসি ও এসপি সাহেবকে বলেছি চৌমুহনীতে যদি কোনো অনিয়ম হয় এর জন্য আপনারা দায়ী থাকবেন। প্রশাসন কঠোর থাকায় অস্ত্রধারীরা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই নোয়াখালী প্রশাসনকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

এমপি একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালীতে ২৪টা মায়ের বুক খালি করেছে দাবী করে কাদের মির্জা বলেন, নোয়াখালীর মানুষ এই একরাম বাহিনির হাতে জিম্মি, তার তৈরি সন্ত্রাসীরা দলিয় নাম ব্যবহার করে দির্ঘদিন সন্ত্রাসী চালিয়ে যাচ্ছে, সে তার ছেলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে যা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তার অপরাজনীতির কারনে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য বিলিন হয়ে যাচ্ছে নোয়াখালীর মাটিতে। আমি বেচে থাকতে এই অপরাজনীতি চলতে দিবোনা। নোয়াখালীর রাজনিতীতে আমাদের অনেক অবদান রয়েছে তাই চোখের সামনে দলের ক্ষতি কখনো মেনে নিতে পারিনা। আমি আমার কাজ করে যাবো, বলে যাবো। জেল দিবে ভয় করিনা কারন অভিজ্ঞতা আছে। মেরে ফেলবে সমস্যা নেই, কবরের জায়গা দেখিয়ে দিয়েছি। কেউ আমার মুখ বন্ধ করতে পারবেনা।

বুরহান/বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর