সিরাজদিখানে মিথ্যা অভিযোগ, মানহানি ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মিথ্যা অভিযোগ, পারিবারিক মানহানি, বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগে সিরাজদিখানে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবারটি গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সংবাদ সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করেন। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মানহানি ও হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সোমবার (১লা ফেব্রুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজদিখান প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চর বিশ্বনাথ গ্রামের মো.শাহ আলম।

সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহ আলম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাসাইল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান দুলু আমাদের বিরোধিতা করে নানা ভাবে সম্মানহানী ঘটাচ্ছে। সে জেলা প্রশাসক বরাবার মিথা তথ্য দিয়ে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলতে চেষ্টা করছে। এই দুলু এলাকার কৃষকদের ভুল তথ্য দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে। তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয় একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করেছে। সরকারি খাল দখল, ভরাট ও মাদক সেবন এসব মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের সামাজিক ও মানসিক হয়রানি ও সম্মানহানি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, আমাদের বাড়ির সাথে একটি সরকারি খালের দেড় শত ফুট পাইপ লাগানোর টেন্ডার দিয়েছে জেলা পরিষদ। সরকারিভাবে এ কাজের টেন্ডার পেয়েছে এন জাহান এটারপ্রাইজ। যার মালিক লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামের কামরুজ্জামান। তারা সেখান খালের মধ্যে পাইপ বসানোর কাজ করছে। আমি বা আমার পরিবারের কেউ এই কাজে জড়িত না। এখানে কৃষক আছেন তারা আপনাদের তথ্য দিতে পারবে

কৃষকরা জানান, আমাদের আক্তারুজ্জামান দুলু বলছে খাল ভরাট করে ফেলছে। এলাকার কৃষি জমিতে পানি আসবে না। বৃষ্টির পানি জমলে বেড় হতে পারবে না। আপনারা জমি রক্ষা করতে চাইলে স্বাক্ষর করেন। আমরা বিশ্বাস করে স্বাক্ষর দিয়েছি, কিন্তু এখন দেখি যার নামে অভিযোগ ও পত্রিকায় নিউজ করেছে। সে এই কাজে জড়িত না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসাইল ইউনিয়নের চর বিশ্বনাথ গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন, মনোয়ার হোসেন, আসলাম ও সতুরচর গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী, মীর হোসেন ভুইয়া, মো. বাবুল, মো. সায়েম, আইউব আলী প্রমুখ।

সরাজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওখানে কেউ ভরাট, পাকা খুঁটি বা মার্কেট নির্মাণ করেনি এবং শাহ আলম এ বিষয় জরিত না। তবে খালের মধ্যে ২ ফুট ডায়ার দেড় শত ফুট পাইপ রয়েছে। ঐ খালের ২ শত ফুট জায়গা ১৩ বছর আগে ৩ ফুট ডায়া পাকা পাইপ লাগিয় মাটি ভরাট করে সরকারি ভাবে রাস্তা বানানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা পরিষদ থেকে দেড়শত ফুট পাইপ লাগানোর কাজ পেয়েছে ঠিকাদার কোম্পানি এন জাহান এটারপ্রাইজ যার মালিক লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামের কামরুজ্জান। ৩ ফুট ডায়ার পর ২ ফুট ডায়ার পাইপ লাগানোর কারণ ঐ এলাকার ৪ টি গ্রামের মানুষ কৃষি কাজে ভোগান্তিতে পরবে।

বাসাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম যুবরাজ বার্তা বাজারকে জানান, ঐ খালে সরকারি ভাবে কাজ চলছিলো, সঠিক কাজ না হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন কাজটি বন্ধ রেখেছে। ওখানে শাহ আলম দখল বা নিমার্ণ, ভরাট কিছু করে নাই। কাজ হলে ভরাট করলে শাহ আলম দখল করতে পারে। কারণ খালের দুইপাড়ে তার জায়গা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বার্তা বাজারকে বলন, ঘটনাস্থলে আমি এসিল্যান্ডকে পাঠিয়েছিলাম তিনি রিপোর্ট দিয়েছেন। আমি জেলায় রিপোর্টটি পাঠিয়েছি। খাল ভরাট হলে ঐ এলাকার কৃষি জমির পানি অপসারণ ও প্রবেশে সমস্যা হবে। তাই খাল ভরাট না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এখনো ওখানে কেউ ভরাট দখল এমন কিছু করেনি।

মিজানুর/বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর