শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা মির্জাপুর এলাকার শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত আরও একজন মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মামুন মিয়া (২৫)। তিনি নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাইগড়পাড়া গ্রামের মিস্টার আলীর ছেলে।
গতকাল রোববার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মামুন মিয়া। এতে ওই দুর্ঘটনায় মোট নিহত হলেন ছয়জন।
মামুন মিয়ার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান আহত মামুন মিয়া গতকাল রাতে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনায় মামুনের মৃত্যুর পর একমাত্র সাত বছরের শিশু রুমিই জীবিত রয়েছে অটোরিকশার ৭ যাত্রীর মধ্যে। সে দুর্ঘটনায় নিহত রোকসানা বেগমের মেয়ে। তার বাড়ি নালিতাবাড়ী উপজেলার নলজোড়া গ্রামে। দুর্ঘটনায় আহত রুমি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে।
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. খাইরুল কবির আজ সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু রুমি একজন থ্যালাসেমিয়ার রোগী। শরীরে রক্ত দেওয়ার জন্য রুমি তার মা রোকসানা ও স্বজন মো. সেলিমের সঙ্গে শেরপুরে আসছিল। পথে দুর্ঘটনায় রোকসানা ও সেলিম নিহত হন। তবে শিশু রুমি বেঁচে যায়।
ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় নিহত রোকসানার স্বামী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ট্রাকচালককে আসামি করে গতকাল রাতে সদর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ট্রাকটিকে জব্দ করেছে। তবে ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত সবার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবাই তাদের স্বজন হারিয়ে আহাজারি করছেন। প্রথম আলো
বার্তাবাজার/ভি.এস