ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সেন্টমার্টিনে সরকারী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মানববন্ধন!

দেশের সর্ব দক্ষিণের ভূ-সীমানা সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ধর্মঘটে নেমেছে দ্বীপের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। এতে বিপাকে পড়েছেন দ্বীপে অবস্থানরত পর্যটকরা। দাবি না মানলে এই কর্মসূচী আরো চারদিন চলবে বলে জানিয়েছেন বক্তারা।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) দ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমদের নেতৃত্বে সকাল-সন্ধা যৌথভাবে ধর্মঘট পালন করেন সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতি, ভ্যান চালক ও ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমদ, ইউপি মেম্বার হাবিব খান, বোট মালিক সমিটির সভাপতি সৈয়দ আলম প্রমূখ।

এ সময় দোকানপাটসহ দ্বীপে চলাচলকারী বাহনগুলোও বন্ধ রাখা হয়। দ্বীপে যাতায়াতকারী ইঞ্জিন চালিত সকল ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিলো। এই অচলাবস্থা আরও চারদিন চবে বলে জানিয়েছেন ধর্মঘটকারীরা।

গত বছরের ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপ অংশে পর্যটকদের যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। ওই পরিপত্রে ছয় ধরণের কার্মকাণ্ড বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় কোস্টগার্ডকে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সেন্টমার্টিনে অব্যাহত ভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে পারছেনা পরিবেশ অধিদপ্তর। উল্টো যেখানে ৪ মাসের আয় দিয়ে ১২ মাসের জীবিকা নির্বাহ করতে হয় দ্বীপ বাসীর, সেখানে ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দ্বীপে বাসিন্দাদের অর্থিক সংকটে ফেলা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমদ বার্তা বাজারকে জানান, (বিএস ১০ নং) খতিয়ান মূলে ছেঁড়া দ্বীপে মোট ১২৭ জনের মালিকানা রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর অন্যায় ভাবে ছেঁড়াদ্বীপ অধিগ্রহণ করেছে দাবি করে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সংক্রান্ত কোনো নোটিশ ১২৭ জন মালিকদের কাছে পৌঁছেনি এবং ইউনিয়ন পরিষদকেও তা চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়নি। তাই আজকের এই ধর্মঘট পালন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোকজন বলেন, ধর্মঘট চলাকালে দ্বীপে অবস্থানরত পর্যটকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তবে চেয়ারম্যান পর্যটকদের অসুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাজমুল এই বিষয়ে কিছুই অবগত নন বলে দাবি করে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

প্রকল্প পরিচালক সোলাইমান হায়দারের মুটোফোনে বারবার চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর