বিএনপি দুর্গ নামে খ্যাত কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে ৮হাজার ১৫৪ ভোটে হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ্ব মামুন সরকার মিঠু বিজয়ী হয়েছেন। ৫ বছর পর এ পৌরসভাটি আওয়ামী লীগের দখলে যাওয়ায়জেলা-উপজেলা-তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হয়েছেন।
তবে বিএনপির এ পরাজয়ের কারণ হিসেবে নেতৃত্বের অভাব ও সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই দায়ী মনে করেন অনেকেই।
জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত শনিবার (৩০ জানুয়ারি) উলিপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মামুন সরকার মিঠু নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হন। প্রথমবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়া তরুন এ মেয়র প্রার্থী নৌকা প্রতীকে ১৫ হাজার ৫৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্ধী বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হায়দার আলী মিঞা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৪১৩ ভোট। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে আতাউর রহমান পেয়ছেন ৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, জেলা ও উপজেলার নেতারা মিঠুর পক্ষে ব্যাপক প্রচারনা চালায়। সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডগুলো তুলে ধরে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চান নেতারা। এছাড়া উপজেলার নেতারা ভেদাভেদ ভুলে দিন-রাত এক করে নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করেন। অপর দিকে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই ভরাডুবির কারন মনে করেন অনেকেই।
সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে ২৭.৩৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে উলিপুর পৌরসভা গঠিত হয়। এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৭ হাজার ৯১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ৫৩৯ ও নারী ভোটার ১৯ হাজার ৩৭৬ জন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্ধী করেন। ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৫১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্ধী করেন। মোট ১৮টি ভোট কেন্দ্রে ও ১১৩টি ভোট কক্ষে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে পৌরসভার ২৬ হাজার ৫০৮ জন নাগরিক ভোট দেন। শতকরা ৬৯ দশমিক ৯১ ভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানায় নির্বাচন অফিস।
বার্তাবাজার/পি