ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইটালিয়ান সবজি স্কোয়াশ চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন মাসুদ পারভেজ নামে এক যুবক। তিনিই সর্বপ্রথম এ অঞ্চলে স্কোয়াশ চাষ করে পরিচিত এনে দিয়েছেন।
জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার জনৈক এক কৃষকের স্কোয়াশ চাষের ভিডিও ইউটিউবে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও বোয়ালমারী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের রায়পুর গ্রামের আবুল বাশার মোল্যার বাড়ির সামনে ৩৬০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন। এ জমিতে তিনি প্রায় ১০ হাজার ৫’শ চারা রোপণ করেছেন। স্কোয়াশের চারাগুলো এখন প্রায় ৭০ সে. মি লম্বা হয়েছে ও প্রতিটি গাছে ১০-১৪ টি স্কোয়াশ ধরেছে। সে অনুপাতে ওই জমিতে আনুমানিক ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ৪০ হাজার পর্যন্ত স্কোয়াশ উৎপাদন হতে পারে বলে আশাবাদী ওই কৃষক।
প্রতিটি স্কোয়াশের ওজন ৮শ গ্রাম থেকে ১ হাজার গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা বিক্রি হতে পারে। যা উৎপাদন খরচের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী। স্কোয়াশ রোপণের দিন হতে ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে স্বল্প সময় ও অল্প খরচে অন্যান্য সবজির চেয়ে কয়েকগুণ বেশী লাভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন ওই যুবক।
স্কোয়াশ চাষী মাসুদ পারভেজ জানান, ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কোয়াশ চাষ শুরু করি। এ পর্যন্ত আমার প্রায় ৮ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা খরচ দাঁড়িয়েছে। সবজি হিসেবে স্কোয়াশ একেবারেই নতুন হওয়ায় আগ্রহ নিয়ে মানুষ ক্রয় করছেন। উৎপাদিত সমস্ত সবজি বিক্রি হলে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি জানান।
মাসুদ পারভেজ আরো জানান, কৃষি বিভাগ থেকে স্কোয়াশের ভালো বীজ ও চাষের প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেলে স্কোয়াশ এ অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল হতে পারে বলে মনে করি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ‘এটি উপজেলার প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ নতুন একটা ফসল। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এই ফসল জুকিনি নামেও পরিচিত। মন জুড়ানো মাঠ ভরা ফসল সত্যিই খুব সুন্দর। এই ফসলের চাষ যেমন লাভজনক তেমনি কষ্টসাধ্য। অন্যান্য ফসলের চেয়ে এতে কয়েকগুণ বেশী লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
বার্তাবাজার/পি