ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভা নির্বাচনে সংঘর্ষে স্থগিত হওয়া সেই ভোটকেন্দ্রে কাউন্সিলর পদে কারাগারে থেকেও ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকিয়ে আবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল মান্নান মোল্যা।
স্থগিত কেন্দ্রে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও বোয়ালমারী সরকারি কলেজ সংসদের সাবেক জিএস আব্দুল মান্নান মোল্যা পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে পর পর দুই নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে টানা ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বরাবরের মতো আসন্ন পৌর নির্বাচনেও প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু তার আগেই একটি চেক ডিজঅনার মামলায় জড়িয়ে আব্দুল মান্নান মোল্যা কারাবন্দী হন। গত ২০ ডিসেম্বর তার পক্ষে কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়ন জমা দেন। ২২ ডিসেম্বর তার মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ বিবেচিত হয়।
এরপর গত ১৬ জানুয়ারি বোয়ালমারী পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও নির্বাচন চলাকালীন বেলা সাড়ে বারোটার দিকে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মধ্যেরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এক সংঘর্ষে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। সহিংসতার এক পর্যায়ে ওই কেন্দ্রের ৭টির মধ্যে ৫টি ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয় উত্তেজিতরা। এসময় একটি ব্যালট বাক্স উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি চারটি ব্যালট বাক্সের ব্যালট পেপার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ওই কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করে দেন নির্বাচন কমিশনার। আজ শনিবার পুণরায় ওই কেন্দ্র নির্বাচন হলে সব বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে অবশেষে কারাগারে থেকেও আবারো তার স্বপ্ন পূরণ হয়।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসার প্রকাশ কুমার বিশ্বাস বলেন, মান্নান মোল্যা ডালিম প্রতীক নিয়ে ৯৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাফর মোল্যা উটপাখি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৫৬ ভোট। এই ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে তিনিসহ সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়াও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নীরা বেগম চশমা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/এসজে