বগুড়ার ধুনট পৌরসভা নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রের বুথে ঢুকে ভোটারের ব্যালটে জোর করে নৌকা মার্কার সীল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর এজেন্টকে মারধর করে মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছেন ধুনট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান।
শনিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ধুনট পৌরসভার চরধুনট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে এঘটনা ঘটে।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নৌকা ও জগ প্রতীকের দুই কর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দÐপ্রাপ্তরা হলেন, ধুনট পৌর এলাকার অফিসার পাড়ার আজাহার আলীর ছেলে নৌকা প্রতীকের কর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম (৪১) ও চরধুনট এলাকার বাদশা প্রামানিকের ছেলে জগ প্রতীকের কর্মী উজ্জল হোসেন (২৮)।
জানাগেছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে ধুনট পৌর সভার ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে ৯নং চরধুনট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দ্বিতীয়তলার একটি বুথে প্রবেশ করেন ধুনট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান ও মঞ্জুরুল ইসলাম। বুথে প্রবেশ করেই তারা আলম নামে এক ভোটারের হাত থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সীল দেন। এসময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এজিএম বাদশাহ্র জগ প্রতীকের এজেন্ট চরধুনট গ্রামের সেলিম মিয়া প্রতিবাদ করেন।
তখন যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান ও মঞ্জুরুল ইসলাম জগ প্রতীকের এজেন্ট সেলিম মিয়াকে মারধর করে মাথা ফাঁটিয়ে দেন। পরে যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান কেন্দ্র থেকে চলে গেলেও মঞ্জুরুলকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ভাইকে মারধরে সংবাদ পেয়ে অর্থদন্ডপ্রাপ্ত উজ্বল মিয়া লাঠি হাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করলে তাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। পরে ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে আশিক খান নৌকা ও জগ প্রতীকের দুই কর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করেন।
জগ প্রতীকের এজেন্ট সেলিম মিয়া বলেন, ধুনট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান ও মঞ্জুরুল ইসলাম বুথে প্রবেশ করেই তারা আলম নামে এক ভোটারের হাত থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সীল দেন। এসময় প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে মারধর করে মাথা ফাঁটিয়ে দেন।
তবে ভোট কেন্দ্রে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে ধুনট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান বলেন, চরধুনট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের এজেন্ট রাজ্জাক ও বেলালকে জগ প্রতীকের এজেন্ট সেলিম মিয়া বুথ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে সেখানে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করে চলে আসি। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের মধ্যে কি হয়েছে তা জানা নেই। তবে প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থীর লোকজন মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এবিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান জানান, অবৈধভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দুজনকে আটকের পর ৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড করা হয়েছে। পরে তারা অর্থদন্ডের টাকা পরিশোধ করায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, একটি কেন্দ্রেই শুধু কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃস্টি হয়েছিল। পরে সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজিউর রহমান জানান, ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের অভ্যন্তরে এবং কেন্দ্রের বাইরে আনসার, পুলিশ, র্যাব, বিজিব ডিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিমসহ সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/এসজে