উইপোকায় খাওয়া সোলার বেড়া ভেঙে পড়ছিলো বিধবা চায়নার । ঘরের বেড়া মেরামত করার সামর্থ্যও ছিল না ৫০ বছর বয়সী ওই বিধবার। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অনেক টাই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি।
বিধবা চায়নার এই অবস্থার কথা জানিয়ে ফেসবুকে লাইভ দিয়ে সহায়তার আবেদন করেছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক এম আব্দুল্লাহ সরকার। সেই লাইভ দেখে বিধবার সহায়তায় এগিয়ে এলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিউইয়র্ক প্রবাসী ও ঢাকায় অবস্থানরত একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।
চায়না সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্ব তেলিজানা গ্রামের মৃত আকবর আলীর স্ত্রী। দীর্ঘদিন আগে স্বামী হারিয়ে কষ্টে দিনপার করছেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
উইপোকায় খাওয়া সোলার বেড়ায় মোড়ানো চায়নার ছোট্ট একচালা ভাঙ্গা ঘরটি এখন চার চালা টিনের ২০ হাতে দৃশ্যমান। দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘরটিতে মেয়ে ও এক সন্তান নিয়ে এখন সুখেই দিন কাটবে বলে মনে করে স্বামী হারা চায়না।
নতুন ঘর পেয়ে চায়না আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, এ ঘর সরকার দেয় নাই সাংবাদিকরা আমাক পত্রিকায় দিয়া করে দিছে। এহুন কইডোদিন শান্তিতে থাইকপার পারমু বাপু। আমার জন্যি যারা ঘর বানাইয়া দিলো আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি দান করবেন বলে দোয়া করেন এই বিধবা।
সেই সঙ্গে চায়নার ৮ম শ্রেনিতে পড়ুয়া মেয়ে মাহমুদার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে একটা সেলাই মেশিন। সেলাই মেশিন পেয়ে চোখ মুখে তূপ্তির হাসি নিয়ে মাহমুদা বলেন, এতো কিছু পামু ভাববারিই পারি নাই।
জানা যায় চায়নাকে নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক এম আবদুল্লাহ সরকার তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে কিছুদিন পূর্বে ওই ভাঙ্গা ঘরের দৃশ্য লাইভে প্রচার করে এবং সমাজপতিদের সহযোগীতা কামনা করে। পরে নিউইয়র্ক প্রবাসীর (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ৪৪ হাজার টাকা, ঢাকায় চাকরিরত ( নাম প্রকাশ না করার শর্তে) এক যুবক ৫ হাজার ও স্থানীয় নাফিছা আনজুমা খান নামের এক ব্যক্তি সেলাই মেশিন দিতে ইচ্ছাপোষণ করে।
প্রতিবেশীরা বলেন, দীর্ঘ বছর ধরেই ভাঙ্গা ছোট একচালা টিনের ঘরে তার বসবাস। পাটের সোলা দিয়ে আটকানো ঘরের বেড়াগুলো উইপোকা খেয়ে শেষ করে দিয়েছিল। চারদিকের বেড়াটা খসে পড়ে এখন প্রায় জায়গা খালি হয়েছিল। হু হু করে ঢুকতো বাতাস। উপরের টিনগুলোও ফুটো হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টির সময় সে ঘরে থাকার উপায় ছিল না। টিনের একচালা ঘরটির সকল বাঁশের খোটাগুলো দুর্বল হওয়ায় যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটে যেত পারতো।
চায়নার ঘরে ১ মেয়ে ও ১ ছেলে। মেয়ে ৮ম শ্রেনিতে পড়ে আর ছেলে অন্যের দোকানে কাজ করে। আর অসহায় চায়না অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পায় তাই নিয়ে চলে সংসার। অভাবের তাড়নায় স্বামীর ভিটেমাটি ছেড়ে ২ সন্তান নিয়ে এখন বাবার বাড়িতে থাকেন তিনি। ঘরে সন্তান নিয়ে থাকতে পারেন না তাই দুই সন্তান অন্যের বাড়িতে রাত্রী যাপন করেন। এখন ঘর হলো আর ছেলে মেয়েদের অন্যের বাড়িতে থাকা লাগবে না
বার্তাবাজার/এসজে