সেতু ভেঙ্গে দূর্ভোগে ৮ গ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছেন এই ইউনিয়নের ৮ গ্রামের মানুষ।

বৃহস্পতিবার(২৮ জানুয়ারী) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূরুঙ্গামারী থেকে বাগভান্ডার যাওয়ার পথে সড়কের পূর্ব বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতুটি কয়েক সপ্তাহ ধরে এভাবেই ভেঙ্গে পড়ে আছে ।যার ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ৮টি গ্রামের মানুষজন। এর আগে সেতুটির মাঝ খানে ভেঙ্গে বড় এক গর্তের সৃষ্টি হয়। সাবধান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু’ লিখে লাল ফিতা টাঙ্গিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হবার পর, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সংস্কারে এগিয়ে আসেনি কেউ।

এত দিন এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করলেও সব শেষে সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার, খামার পত্র নবীশ, মানিককাজির কিছু অংশ, ভোটহাট গ্রাম, পাথরডুবী জিন্নতি বিজিবি ক্যাম্প ও পাথরডুবী ইউনিয়নের ৪টি গ্রামেসহ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে এলাকার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড।

বাগভান্ডার বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী শামিম হোসেন জানান,”সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় কনজুমার প্রোডাক্টের মালামালের কোন কোম্পানির গাড়ী বাজারে ঢুকতে পারছেনা। তাই উপজেলা সদর থেকে ব্যবসায়িক মালামাল কিনতে হচ্ছে। তাতে দ্বিগুন পরিবহন খরচ হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা বাড়তি দামে পন্য কিনতে চাচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন এখানকার ব্যাবসায়ীরা । আমরা
একটি নতুন সেতু নির্মান করার জন্য জোড় দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান এরশাদ জানান, যদিও সেতুটি তার ওয়ার্ডে না। তবুও জন দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে সেতুটির মাঝ বরাবর মাটি ফেলে দুইপাড়ের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে পায়ে হেটে ও হাল্কা যান চলাচলের ব্যবস্থা করবেন।

এই ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, “আমি গত ডিসেম্বর মাসে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহন করেই সেতুটি পুণঃ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।আশা করি দ্রুতই সেটা সংস্কার হবে ।”

উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান বলেন,”আমরা ইতিমধ্যে সেতুটি নির্মাণের ব্যয় বিবরণী তৈরি করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠিয়েছি । তাছাড়া উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রেরিত একটি প্রতিনিধি দল সেতুটি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি খুব শীঘ্রই দরপত্র আহবান করে সেতুটির নির্মানকাজ শুরু করতে পারবো। ”

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর