নাম তার মোশারফ হোসেন। ৩০ বছর ধরে ‘ইমাম’ হিসেবে চাকরি করছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ইপিজেড থানা সংলগ্ন মসজিদ প্রকাশ লেবার কলোনী জামে মসজিদে। দীর্ঘদিন চাকুরি থাকাকালীন ও পদবি ‘ইমাম পরিচয়ের’ ব্যানার দিয়ে আদায় করেছেন নানান সুবিধা।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আছে বন্দরের নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন তদবির ও সুপারিশ বাণিজ্য করার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ। এসব করে তিনি চট্টগ্রাম শহরে গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন। এছাড়াও জায়গা-জমিসহ তার রয়েছে অঢেল সম্পদ।—এমন অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
গত ২৯ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর দফতরে এ অভিযোগ।
চট্টগ্রাম বন্দরের চাকুরিকালীন সময়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে। নানা অনিয়ম ও তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়োগ প্রার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। ইপিজেড থানার লেবার কলোনী ছাড়াও ওই এলাকায় রয়েছে ৫ তলাবিশিষ্ট দুইটি বহুতল ভবন। যার মূল্যে আনুমানিক বাজারমূল্যে প্রায় প্রায় ৬ কোটি টাকা। তার ও পরিবার সদস্যের নামে-বেনামে রয়েছে জায়গা ও জমি, ব্যাংকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও এফডিয়ার।—এমনটাই জানা গেছে দুদকের অভিযোগ সূত্রে।
জানা গেছে, ১৯৮৯ সালের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চতুর্থ শ্রেণীর পদমর্যাদা হিসেবে চাকুরি যোগদান করেছেন মো. মোশারফ হোসেন। তার আরও প্রায় ৫ বছর চাকুরি মেয়াদ থাকারও কথা রয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এগুলো সব আমার পৈতৃক সম্পত্তি। আমার অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। সব সম্পদই বৈধ। দুদকে যদি অভিযোগ থাকে তাহলে দুদক আসুক। এসে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেক। আপনি দুদককে বলেন আমার এখানে আসতে।’
তিনি বলেন, আমার অর্জন করা সম্পদের কোনো অবৈধ অর্থ নেই। তার টাকায় বৈধ। তদন্ত সংস্থা যারাই আসবে আমি এই সম্পদের প্রমাণ দেখাতে পারবো। আপনি আসেন আমার কি কি সম্পদ আছে তার বিস্তারিত প্রমাণপত্র দেখাতে পারবো।’
প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বন্দরে চাকুরিকালীন সময়ে আমি কোনো অনিয়ম করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কেউ এসব করছে।’
এক পর্যায়ে তিনি মসজিদে গিয়ে প্রতিবেদককে তার সাথে দেখা করার অনুরোধ জানিয়ে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন৷
বার্তাবাজার/পি