লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১ নম্বর উত্তর হামছাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মাসুদ আলম স্কুলের কক্ষে ইয়াবা সেবনের সময় এলাকাবাসীর কাছে হতেনাতে ধরা পড়েন।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে এলাকাবাসী ওই প্রধান শিক্ষককে ইয়াবা সেবনের সময় ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদিসহ হাতেনাতে আটক করে। পরে বিদ্যালয় থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার শর্তে এলাকাবাসী তাকে ছেড়ে দেয়। এসময় এলাকাবাসী জানায়, কয়েক দিন ধরে রাতে বিদ্যালয়ে এসে নিজ কক্ষে তিনি ইয়াবা সেবন করে আসছেন। এটা বুঝতে পেরে এলাকাবাসী ওত পেতে থেকে তাকে আটক করে।
এই ঘটনার পর থেকেই ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদিসহ মাসুদ আলমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্কুল পরিচালনা কমিটির জরুরি সভা করে প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সভাপতি ফরিদ উদ্দিন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, বেশ কয়েক দিন ধরে প্রধানশিক্ষক মাসুদ মোটরসাইকেলে করে এসে বিদ্যালয়ের নিজ কক্ষে ঢুকেন এবং সময় কাটান। বিষয়টি স্থানীয়রা বুঝতে পারলে। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে তারা আগে থেকেই ওত পেতে থাকেন। রাত ৮ টার দিকে মাসুদ বিদ্যালয়ে এসেই নিজ কক্ষে ঢুকে ইয়াবা সেবন শুরু করে। একপর্যায়ে এলাকাবাসী জোট বেধে তার কক্ষে ঢুকে হাতেনাতে ইয়াবা সেবন ও সেবনের সরঞ্জামাদিসহ প্রধান শিক্ষককে আটক করে। এসময় তার কক্ষ হতে প্লাস্টিকের বোতল, কর্কসহ ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়। এ সময় মাসুদ বলেন এ ধরনের কাজ আর করবেন না তিনি, জানিয়ে এ বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেয়।
দুজন অভিভাবক জানান, এই প্রধান শিক্ষক নেশায় জড়িত। এমন শিক্ষক দ্বারা ভালো কিছু আশা করা যায় না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ইয়াবা সেবনের ঘটনাটি কয়েকজন আমাকে জানিয়েছে। সম্মান রক্ষার্থে আপাতত তাকে ছেড়ে দিতে বলেছি। পরিচালনা কমিটির বৈঠকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে তাকে ফোন দিলে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানান, মাসুদ ফোন রেখে ঘর থেকে বের হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মহসিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এর আগেই লোকজন শিক্ষককে ছেড়ে দিয়েছে।
উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানা নেই।
এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ বলেন, ঘটনাটি আমাকে কেউ জানায়নি। এ ব্যপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম