ধর্মঘট করেছে দেশের সকল দূরপাল্লার নৌযান

ঢাকার মেরিন আদালতে যাত্রীবাহী নৌযানের দুইজন মাস্টারের (চালক) জামিন বাতিল করে আদালতে প্ররণের ঘটনায় ঢাকা-বরিশালসহ দেশের সকল দূরপাল্লা রুটে নৌযান ধর্মঘট শুরু করেছে নৌযান শ্রমিকরা।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) ওই দুই চালকের মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত শুরু হওয়া ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন বলে জানান নৌযান শ্রমিক নেতারা।

নৌযান শ্রমিকদের এমন ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দূরপাল্লার সাধারণ যাত্রীরা। তারা দ্রুত নৌযান ধর্মঘট নিরসনের লক্ষ্যে কতৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে বরিশাল নদী বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, নদী বন্দরের পন্টুন থেকে ঢাকা মুখী যাত্রীবাহী লঞ্চ গুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এমন কি ঢাকাগামী যাত্রীদের লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল জেলা সভাপতি শেখ আবুল হাসেম জানান, বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি এ্যাডভেঞ্চার-১ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার জামাল হোসেন এবং এমভি এ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার রুহুল আমীন গতকাল সোমবার ঢাকার মেরিন আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে গেলে তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠনোর আদেশ দেন বিচারক জুনায়দা বেগম। এ ঘটনায় নৌযান শ্রমিকরা সংক্ষুব্ধ হয়ে কারাবন্দী দুই নৌযান মাস্টারের মুক্তির দাবিতে তাৎক্ষণিক ধর্মঘট শুরু করেন।

এদিকে কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে দূরপাল্লার নৌযান ধর্মঘট শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রীরা। তারা অনতিবিলম্বে নৌযান ধর্মঘট নিরসনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘন কুয়াশার কারণে মধ্য বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনা নদীতে এমভি এ্যাডভেঞ্চার-৯ এবং এমভি এ্যাডভেঞ্চার-১ লঞ্চের মধ্যে ঘর্ষণ (আঘাত) হয়। এতে কোন লঞ্চের কোন ক্ষতি কিংবা কোন হতাহত হয়নি। এ ঘটনায় কোন অভিযোগও ছিলো না। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিআইডব্লিউটিএ মেরিন আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। গতকাল ওই দুই লঞ্চের দুই মাস্টার নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে ঢাকার মেরিন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেয়।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর