সংখ্যালঘুকে রশি দিয়ে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করলেন আ.লীগ নেতা
করোনাকালীন সময়ে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করে আলোচিত-সমালোচিত হন বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বাঁশখালী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করার অভিযোগে তাকে শোকজ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে মুচলেকা দিয়ে পার পেয়ে যান ওই চেয়ারম্যান।
এবার মাথা ফাটালেন পন্ডিত উজ্জ্বল ভট্টাচার্য নামের এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির। রাতভর রশি দিয়ে বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগে রবিবার (২৪ জানুয়ারী) বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মাঈনুল ইসলামের আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বাদী পন্ডিত উজ্জ্বল ভট্টাচার্য।
ওই মামলা ম্যাজিষ্ট্রেট মাঈনুল ইসলাম আমলে নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বাঁশখালী আইনজীবি সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবি শামশুল ইসলাম চৌধুরীসহ ৪জন আইনজীবি।
আদালতে দেয়া পন্ডিত উজ্জ্বল ভট্টাচার্যের অভিযোগে জানা যায়, চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকার নির্দেশে গত ৭ জানুয়ারি সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামে অবস্থিত উজ্জ্বল ভট্টাচার্যের দোকান থেকে তাকে চৌকিদার বশির আহমদ বাদীর সাথে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধীয় আরও ৬ জনের সহযোগিতায় জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিক্সা যোগে উঠিয়ে নিয়ে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়িতে রাত ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে লাঠি দিয়ে নিজ হাতে পিটিয়ে বুকে, পিঠে, কোমরে, উভয় রানে, পায়ে ও মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেন।
ওই রাতে উজ্জ্বল ভট্টচার্যের শারীরিক অবস্থা বেগতিক হলে তার আত্মীয়-স্বজন রক্তাক্ত অবস্থায় চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে তাকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মাথায় ৪টি সেলাই করা হয়। চেয়ারম্যানের পিটুনিতে এখনও পুরো শরীরে ব্যথা ও মাথায় জখম রয়েছে। মাথা ফাটিয়ে দেয়ার পর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা ১০০ টাকার ৩টি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।
ভুক্তভোগী পন্ডিত উজ্জ্বল ভট্টচার্য্য বার্তা বাজারকে বলেন, আমার পৈত্রিক ১৬ শতক জায়গাতে আমি বিগত ২২ বছর ধরে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছি। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পুজা ও জোতিষ শাস্ত্রীয় পেশায় জড়িত আছি। এলাকায় আমাকে সবাই পন্ডিত হিসেবে চেনে। আমার প্রতিবেশি ঋষিকেষ ভট্টচার্য্য ওই সম্পত্তি দাবি করে সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করে। চেয়ারম্যান আর্থিক সুবিধা নিয়ে চৌকিদার বশির আহমদ, প্রমীরণ দে, মুবিন, কামাল আহমদ, করুণাময় ভট্টচার্য্য, প্রেমানন্দসহ আরও ৪/৫ জনের সহযোগিতায় আমাকে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিক্সা করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে উঠিয়ে নেন এবং পিটিয়ে মাথা ফেটে দেন। পরে ১০০ টাকার ৩টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। আমি থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের কারণে মামলা নেননি। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে আমি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আজ মামলা দায়ের করেছি।
বাঁশখালী আইনজীবি সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবি শামশুল ইসলাম চৌধুরী বার্তা বাজারকে বলেন, পন্ডিত উজ্জ্বল ভট্টচার্য্যের ওপর চেয়ারম্যানের ন্যাক্কারজনক হামলার মামলাটি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে বার্তা বাজারকে বলেন, আমি উজ্জ্বল ভট্টচার্য্যকে পিটাইনি, রশি দিয়েও বাঁধিনি। কিভাবে মাথা ফেটেছে জানি না। কোন স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নিইনি।
বার্তাবাজার/এ.আর