ক্যাম্পাসে অবৈধ বসতি, জায়গা উদ্ধারে বিপাকে জবি প্রশাসন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একাডেমিক ভবন ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এখন জায়গা উদ্ধারে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দুই দফায় নোটিশ দিয়েও এসব অবৈধ বসতি ছাড়ছে না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

গতবছর ২০ সেপ্টেম্বর ৭ দিনের মধ্যে দখল ছাড়তে বলে নোটিশ দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বর্ধিত করে প্রশাসন। কিন্তু সময় পার হলে প্রশাসনের নির্দেশকে গুরুত্ব না দিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

গত ১৪ জানুয়ারি অবৈধ বসতি ছাড়তে নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ড. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একাডেমিক ভবনে কেউ রাত্রীযাপন বা বসবাস করতে পারবে না’।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রসায়ন বিভাগের ক্লাসরুমের পাশে সিঁড়ির নিচে বসতি গড়েছেন সামসুল আলম নামে ইতিহাস বিভাগের আরেক কর্মকর্তা। একই বিভাগের পাশে সিঁড়ি ও ক্লাসরুমের মাঝখানে নিজস্ব ঘর বানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের সেকশন অফিসার আবু ইমরান, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সেকশন অফিসার জাবেদ আলী খান ও বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার আক্তার হোসেন। অর্থনীতি বিভাগের ক্লাসরুমের সামনে সিঁড়ির নিচে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন ভূগোল বিভাগের সেকশন অফিসার সানভীব আহমেদ বাচ্চু। ভাষা শহীদ রফিক ভবনের পেছনে দেয়াল ঘেষে ক্যাম্পাসের ড্রেন বন্ধ করে বসবাস করছেন ভিসি দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. জামাল হোসেন।

এদিকে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কর্মচারীরাও ঘাঁটি গড়েছেন একাডেমিক ভবনগুলোতে। উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন আব্দুল খালেক, মো. টিপু, মো. আজিজ নামের তিনজন কর্মচারী। ভূগোল বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন বাসচালক মনির। পরিসংখ্যান বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের কর্মচারী হারুনুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও মো ফারুক। বজলুর রহমান ভবনে থাকেন কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন, অ্যাম্বুলেন্সচালক তাজুল ইসলাম ও বাসচালক খোকন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরদের ভাষ্যমতে একাডেমিক ভবনে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব বসতির জন্য ক্লাসরুমের পরিবেশ নষ্ট হয়। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খালি গায়ে, লুঙ্গি পড়ে, দাঁত ব্রাশ করতে করতে একাডেমিক ভবনে ঘোরাফেরা বিব্রতকর বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে অবৈধভাবে বসবাস করা ভিসি দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নোটিশ পেয়েছি, আমি বাসা খুঁজছি, এমাসের মধ্যেই আমি চলে যাবো।’

এবিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির অবস্থান জানতে সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে বার্তা বাজারকে বলেন, ‘তাদের থাকার জায়গা নেই তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে তারা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে। এতদিন তারা প্রশাসনকে হয়তো বুঝিয়ে ভিতরে ছিলো, যেহেতু প্রশাসন এখন মনে করছে বিষয়টা ভালো হচ্ছে না, সেহেতু তাদের এখন জায়গা ছেড়ে দিতেই হবে।’

কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জলিল বার্তা বাজারকে বলেন, ‘যারা ক্যাম্পাসে থাকছে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আছে, এখন প্রশাসন যেহেতু তাদের চলে যেতে বলছে, তাদের জায়গা ছাড়তেই হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ড. মো. ওহিদুজ্জামান বার্তা বাজারকে বলেন, আগেও তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তখন তাদের অনেকেই সময় চেয়ে আবেদন করেছিলো। আবেদন বিবেচনায় আমরা সময় বাড়িয়েছিলাম। এখন তারা যদি জায়গা না ছাড়ে, তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে।

বার্তাবাজার/এ.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর