লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ইউজিআইআইপি-৩ এর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাব খাটিয়ে ইচ্ছে মতো কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবিএম ওয়াটার কনস্ট্রাকশন। শুধু তাই নয় প্রকল্প তদারকি সংশ্রিষ্টদের নির্দেশনা মানছেনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এতে ক্ষুব্ধ খোদ পৌর মেয়র।
পৌরসভার তথ্যমতে ২০১৯ সালে প্রায় ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের অধীনে ওয়াটার প্লান্ট, পাইপ লাইন ও ওয়াটার প্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পে ৬৮০ ঘনমিটার পানি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার প্লান্ট, ৩৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন ও ৭টি ওয়াটার প্রোডাকশন স্থাপনের কাজ বর্তমান চলমান। চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পৌরসভাকে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার লাহারকান্দি, আবিরনগর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় ওই বছরের নভেম্বরে লাহারকান্দি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির নতুন পাইপ লাইনের কাজ করা হয়। তবে নিয়ম না মেনে প্রতিটি পাইপ আঠা ছাড়া সংযোগ দেয়া হয়। পরে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পাইপ লাইনে পানির গতি (প্রেসার টেস্ট) পরীক্ষা করা হলে পাইপের প্রতিটি সংযোগে লিকেজ দেখা দেয়। অথচ পরবর্তীতে একই কায়দায় পাইপগুলো বসানো হয়। কাজের অনিয়ম এনে ভুক্তভোগী এলাবাসী প্রতিবাদ জানায়। এতে করে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ছেড়ে চলে যায়। ফলে পুরাতন লাইনে লিকেজ হওয়াায় ওইসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পুকুর ডোবা থেকে পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার ও পাইপের ওপরে এবং নিচে সঠিকভাবে বালু ভরাট করা হয়নি। জোড়া-তালি দিেিয় পাইপগুলোর সংযোগ দিয়ে কোন রকম দায়সারা কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবিএম ওয়াটার কনস্ট্রাকশন। একই সাথে প্রভাব খাটিয়ে ইচ্ছে মতো কাজ করছে তারা। শুধু তাই নয় প্রকল্প তদারকি সংশ্রিষ্টদের নির্দেশনাও মানছেনা বলে অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ শাখার সুপার সামছুদ্দিন বলেন ঠিকাদার কারও কথা শোনেন না। তারা নিজ ইচ্ছায় লোক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে দুদকে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভা সচিব আলা উদ্দিন বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত করার জন্য পৌর মেয়র বিভিন্ন ভাবে বলে আসছেন। তবে আমাদের সার্বক্ষনিক তদারকি রয়েছে, পৌর প্রকৌশলী থেকে শুরু করে দায়িত্বরত সবাই তদারকি করছেন। আগামী মার্চ-এপ্রিলের দিকে কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন সচিব। কাজ শেষ হলে পৌরবাসী সুপেয় পানি পাবে এবং পানির সমস্যা সমাধান জবে।
সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পৌরসভা। আমরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। প্রতিটি সংযোগ পানি দিয়ে পেসারাইজ করে পরীক্ষা শেষে বাসবাড়ীতে পানির সংযোগ দেয়া হবে। এর কোন বিকল্প নাই।
এবিএম ওয়াটার কনস্ট্রাকশন ব্যবস্থাপক আহছান কবির পারভেজ জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে কিছু কাজ এখনো বাকী আছে, তবে খুব অল্প সময়ে শেষ হবে। করোনার কারণে কিছু সময় ক্ষেপন হয়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয় তিনি বলেন যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছেন।
বার্তাবাজার/পি