মামলার তদন্ত রিপোর্টে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বক্তব্য না নিয়েও তা রিপোর্টে উল্লেখসহ নানা অসংগতিপূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের অভিযোগ এনে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র দাখিলকৃত তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে পূনঃতদন্তের দাবিতে সংসাদ সম্মেলন করেছে বিবাদি পক্ষসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
সোমবার (১৮ জানুয়ারী) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়ন পরিষদ এর সভা কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন বিবাদি পক্ষের মো: রফিকুল ইসলাম ও ভানোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেলার ভানোর ইউনিয়নের দূর্গাপুর সাকিনের পৈতৃক সুত্রেপ্রাপ্ত ১৮৪০ ও ১৮৪১ দাগের মোট ৫৪ শতক জমি রফিকুল, দেরেম আলী, বাবুল মাস্টার ও নাসিরুল-কসিরুল চার শরিকে ভোগ দখল করে বসবাস করে আসছিলো। সম্প্রতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে এই জমির মাঝ বরাবর রাস্তা ব্যবহারের জন্য ৩ শতক জমি নির্ধারণ করে দেয়। এতে বাবুল মাষ্টারের অধিক দখলীয় জমিতে টয়লেট ও বাথরুমসহ আংশিক স্থাপনা রাস্তার ম্যাপে চিহ্নিত হয়। ফলে স্থানীয়রা তা সরিয়ে নিতে বাবুল মাস্টারকে অনুরোধ করে। এদিকে ঘটনার দিন গত ৪ ডিসেম্বর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রফিকুল ও দেরেম আলীকে ফাঁসাতে বাবুল মাস্টার তার স্থাপনা নিজেরাই ভাংচুর করে এবং রফিকুলসহ ৮ জনকে আসামী করে ৭ ডিসেম্বর কোর্টে একটি মামলা করে। পরবর্তীতে গত ২০ ডিসেম্বর এ মামলার তদন্তভার পান পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই তদন্ত করে গত ১১ জানুয়ারী একটি তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন।
তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, পিবিআই মামলার দায়িত্ব পান ২০-১২-২০ ইং তারিখে এবং সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, খসড়া মানচিত্র ও সুচিপত্র অংকন এবং ছবি উত্তোলনসহ তদন্তের যাবতীয় কাজ করেন ২১-১০-২০ ইং তারিখ সকাল সোয়া দশটা হতে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত।
এছাড়াও তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, মোট সাতজন ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বাদী পক্ষের চারজন ও নিরপেক্ষ ৩ জন, এখানে বিবাদী পক্ষের কারও বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এছাড়াও রিপোর্টে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা উল্লেখ থাকলেও তাদের কারো সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি পিবিআই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব।
বার্তাবাজার/এ.আর