রাত পোহালেই শেরপুর পৌর নির্বাচন: কে হচ্ছেন পৌর অভিভাবক
রাত পোহালেই শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পৌষের শীত ও করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে প্রচার-প্রচারণায় এলাকা সরগরম করে রেখেছিল অর্ধশত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতেও প্রস্তুত।
উৎসব মুখর পরিবেশ চলছে নির্বাচনী পাড়া-মহল্লাগুলোতে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ নির্বাচনে কে হচ্ছেন পৌর অভিভাবক। এমন আলোচনাই চলছে এখন সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলে।
১৮৭৬ সালে স্থাপিত দেশের অন্যতম পুরাতন পৌরসভা বগুড়ার শেরপুর। এ পৌরসভাটি অনুমোদন হয় বগুড়া সদর পৌরসভার ১দিন আগে। ১০.৩৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শেরপুর পৌরসভার মেয়র ও ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭ শ ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৪শ১৫ জন এবং নারী ভোটার ১২ হাজার ৩শ৩৯ জন। ১১টি কেন্দ্রে গোপন ব্যালটে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন অফিস।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চার প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার (নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুন্ডু (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) জানে আলম খোকা (জগ) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এমরান কামাল ইমরান (হাতপাখা)।
এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৩টি পদে ১০ জন এবং ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন সর্বমোট ৫০ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৩০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে পৌরসভা এলাকা ছেয়ে গেছে নির্বাচনী পোষ্টার-ফেষ্টুনে। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের পক্ষে সুরেলা কন্ঠে ও নির্বাচনী গানের সাথে মাইকিং। প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পাড়া-মহল্লা। চায়ের কাপে ঝড় তুলেছে পৌর নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। এদিকে ১৪ জানুয়ারী রাত ১২টা থেকেই শেষ হয়েছে সকল প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা।
নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন প্রার্থী হলেও মূল লড়াই হতে পারে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার, সাবেক মেয়র বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য স্বাধীন কুমার কুন্ডু ও সাবেক মেয়র বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা জানে আলম খোকার মধ্যে।
বিগত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার ৮ হাজার ৯শ ১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর বিএনপির প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুন্ডু পেয়েছিলেন ৬ হাজার ১শ ৬৫ ভোট। তবে এ নির্বাচনে নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭ শ ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৪শ১৫ জন এবং নারী ভোটার ১২ হাজার ৩শ৩৯ জন। তাছাড়া বিগত নির্বাচনগুলোর ভোটার ও মেয়র প্রার্থীদের অনুকুলে প্রাপ্ত ভোট এবং নতুন ভোটার বৃদ্ধির সমীকরন অনুপাতে এ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিশেষ সুবিধাও পেতে পারেন বলে সাধারন ভোটাররা বলাবলি করছেন। তবে কে হচ্ছেন পৌর অভিভাবক এমন আলোচনায় স্ব-স্ব প্রার্থীর সর্মথকরা দাবী করলেও সাধারণ ভোটাররা যোগ্য ব্যক্তিকেই চাচ্ছেন পৌর অভিভাবক হিসাবে।
বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার বার্তা বাজারকে জানান, বিগত ৫ বছরে পৌরসভায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। আরও সাড়ে ৮ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জনগণ আবারো নৌকা প্রতীকে ভোট দিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু বার্তা বাজারকে জানান, বিগত সময়ে পৌরবাসী উন্নয়ন থেকে বি ত হয়েছে। আমি সাধ্যমত উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলাম। তাই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের বিজয় হবেই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জানে আলম খোকা বার্তা বাজারকে জানান, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে পৌরসভার উন্নয়ন বি ত জনগণ আমাকে জগ মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে ইনশাআল্লাহ। আমি নির্বাচিত হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নে বাংলাদেশ গড়ার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে শেরপুর পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তুলবো।
শেরপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রির্টানিং অফিসার মোছা. আছিয়া খাতুন বার্তা বাজারকে জানান, শেরপুর পৌরসভায় ১১ টি ভোট কেন্দ্র গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পযন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। এজন্য ১১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৮২ জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৬৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৯টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে।
তিনি বার্তা বাজারকে আরো জানান, নির্বাচনে আচরণ বিধি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৩জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। শান্তিপুর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বার্তা বাজারকে জানান, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া ভোটের মাঠে সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। অবাধ-সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তাই এই পৌরসভার অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন পুলিশ সদস্যসহ ১৩ জন ও সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন পুলিশসহ ১১ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবেন বলে জানান ।
বার্তাবাজার/এ.আর