টিলা ঘেরা সবুজ সিকৃবি ক্যাম্পাস

সৈয়দ জাহিদ হাসান, সিকৃবি প্রতিনিধিঃ চারিদিক টিলা ঘেরা, সবুজে-শ্যামলিমায় ঢাকা, গাছ-পালায় আচ্ছাদিত, পরিপাটি সব ভবন আর তার মাঝে সজ্জ্বিত জলাধার। শিল্পির তুলিতে আঁকার মত এমন দৃশ্যের বাস্তব প্রচিচ্ছবি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

ছবির মতো সুন্দর মনোজগতে তৈরি হওয়া কল্পনার বাস্তব এমন সব দৃশ্য দেখতে হলে চলে আসতে হবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) ক্যাম্পাসে। মোনমুগ্ধকর সৌন্দর্যের এ দৃশ্যকে সঙ্গী করেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি, গবেষণা, সহ-শিক্ষামূলক বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে, আড্ডা-গল্পে সময় কাটাচ্ছেন নিজেদের মতো করে। নিরিবিলি-সবুজ-শান্ত-স্নিগ্ধ এই ক্যাম্পাস নিয়ে তাই শিক্ষার্থীদের গর্বের যেন নেই শেষ।

শুরুর গল্প

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সংক্ষিপ্ত রূপ সিকৃবি) সিলেট শহরের টিলাগড়ে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত পূণ্যভূমি হাওর, সমতল ভূমি ও টিলাবেষ্টিত দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির সিলেট বিভাগে কৃষি শিক্ষা প্রসারের জন্য ০২ নভেম্বর, ২০০৬ সালে বিলুপ্ত সিলেট সরকারি ভেটেরনারি কলেজকে একটি অনুষদে রূপান্তর করে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে তিনটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে ছয়টি অনুষদ চালু হয়। এসকল অনুষদের মাধ্যমে কৃষি বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও কৃষি বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষা দান, গবেষণা কার্য পরিচালনা করা হয়।

সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ০৭ কিমি উত্তর-পূর্বে পাহাড় বেষ্টিত ৫০ একর এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদীয় ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক ভবন ছাড়াও নির্মানাধীন রয়েছে আরও উন্নয়ন প্রকল্প। তামাবিল বাইপাস রাস্তার উত্তর পাশে বিকেএসপি, সিলেট এর পূর্ব পাশে ১২.২৯ একর ভূমি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও গবেষণা মাঠ গড়ে তোলা হচ্ছে।

শিক্ষা কার্যক্রমঃ

মোট ছয়টি অনুষদের আওতায় ৪৭ টি বিভাগ নিয়ে পরিচালিত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ভেটেরিনারি, এনিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্স অনুষদের নতুন ও পুরাতন দুটি ভবনের পাশাপাশি গবেষণার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাব। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি পশু হাসপাতাল; যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ক্লাস করার সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রয়েছে কৃষি অনুষদের গবেষণা মাঠ; যেগুলোতে কাজ করার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া মাৎস্যবিজ্ঞান, কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি এবং বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত ও ব্যাবহারিক জ্ঞান লাভের সুযোগ রয়েছে। রয়েছে অত্যাধুনিক লাইব্রেরি।সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি বেশ কিছু শিক্ষার্থীর অধ্যয়নই বলে দেয় শিক্ষার মান কেমন। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সকল অনুষদ থেকেই বিভিন্ন সহ শিক্ষামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের সব সময়ই অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়। তাছাড়া বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজে শিক্ষকবৃন্দ সবসময় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে থাকেন।

আবাসিক হল

ছাত্রদের জন্য রয়েছে মোট ৫ টি হল; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী হল, শাহ এ. এম. এস. কিবরিয়া হল, আব্দুস সামাদ আজাদ হল ও নব্য নির্মিত হযরত শাহ পরাণ (র.) হল। এছাড়া ছাত্রীদের রয়েছে ২ টি হল; সুহাসিনী দাস হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। মোট সাতটি হল থাকায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নেই বললেই চলে।

ক্যাম্পাসের রূপ-বৈচিত্র

চারিদিক টিলা ঘেরা সবুজে মোড়ানো ক্যাম্পাস সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যার পূর্ব পাশেই রয়েছে মনোরম টিলা ; মোহন টিলা নামেই যা বেশি পরিচিত, এর ঠিক সাথেই রয়েছে বান্দর টিলা। পড়াশুনার একঘেয়েমি থেকে নিস্তার পেতে প্রায়ই অনেকে চলে যান প্রকৃতির মাঝে। এর ফাকেই হয়ে যায় আড্ডা, গান আর কুশলাদি। বান্দর টিলায় গেলেই দেখা পাওয়া যাবে দুষ্ট বানরের দলকে। বান্দর টিলার ঠিক উপ্র থেকেই দেখতে পাওয়া যায় সিলেট শহরকে। ঠিক উত্তর দিকে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম টিলাগড় ইকোপার্ক ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্র। সম্প্রতি এখানে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন বন্যপ্রাণি। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থিরা এসে ভিড় জমান এখানে। এর ঠিক শেষ প্রান্তে রয়েছে গ্যাস ফিল্ড, মনোমুগ্ধকর চা বাগান ও বিশাল পাম বাগান। বলা যায় সাধ্যের মধ্যে সবটুকু পাবেন। এসবকিছুই সিকৃবি ক্যাম্পাস থেকে দুই মিনিটের বেশি দুরুত্বের পথ নয়।

আড্ডায়-গল্পে যেখানে সময় কাটে

সিকৃবি ফুচকা চত্ত্বর- এক নামে সবার কাছেই পরিচিত। তবে বৈশাখি চত্ত্বর নামেও ডাকা হয়। সিকৃবি শিক্ষার্থীদের হাসি-কান্না-আন্দোলন-রাজনীতি-উৎসব এসব কিছুরই কেন্দ্রবিন্দু ফুচকা চত্ত্বর বা বৈশাখী চত্ত্বর।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার; সূর্যালোকে বর্ণমালা- বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর শহীদ মিনারের তালিকা করা হলে তার একটি সূর্যালোকে বর্ণমালা। প্রথম সূর্যের কিরণ যখন শহীদ মিনারের বর্ণমালাগুলোর উপর পড়ে তখন সত্যিই তা অনিন্দ সুন্দর লাগে। এখানে বসে আড্ডা, গান, কখনো বা সাংগঠনিক আলাপ।

সিকৃবি টিএসসি- বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান, মিটিং-মিছিল আয়োজনের সাক্ষী সিকৃবি টিএসসি চত্ত্বর। যেখানে রয়েছে ক্যাফেটেরিয়া।

ওয়াসিম চত্ত্বর- সিকৃবি শিক্ষার্থী ঘোরী মোহাম্মাদ ওয়াসিম স্মরণে রয়েছে ওয়াসিম চত্ত্বর। গাছপালায় আচ্ছাদিত ছায়া ঘেরা এই চত্ত্বরেই বসে রাজনৈতিক আলাপ, যেখান থেকে পিছনে তাকালেই দেখতে পাওয়া যাবে ওয়াসিমের ছবি।

বঙ্গবন্ধু কৃষি চত্ত্বর- প্রসাশনিক ভবন সংলগ্ন এই স্থানটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল রয়েছে। যার কারণে যায়গাটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কৃষি চত্ত্বর। জালাল মামার টং- ছাত্র হল থেকে বিভিন্ন অনুষদগামী রাস্তার ঠিক বাম পাশেই রয়েছে জালাল মামার টং।

নানার টং- সিকৃবির ৩ নং ফটকেই রয়েছে বেশ কিছু খাবারের দোকান। স্থানীয়ভাবে যাকে সবাই টং নামে ডাকে। এখানেও বসে আড্ডা,গান। এর পাশেই রয়েছে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। বলা যায় সিকৃবি আর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর ছাত্র-ছাত্রীদের মিলনমেলা বসে এখানে।ইকোপার্ক ব্রিজ- নামকরা সুস্বাদু গুড়ের চা, পেঁয়াজি, বেগুনীর লোভে প্রতিদিনই আড্ডা বসে এখানে।

শিক্ষার্থীদের যত সংগঠনঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সক্রিয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বেশ কিছু সংগঠন রয়েছে। যারা তাদের সামাজিক ও সৃংস্কৃতিক কর্কান্ডের মাধ্যমে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেশ থেকে দেশান্তরে নিয়ে গেছে। শুনতে বাড়াবাড়ি মনে হলেও মোটেও মিথ্যে নয়। যে কেউ গুগলে এই সংগঠনগুলোর নাম লিখে অনুসন্ধান করলেই সত্যতা পাবেন। এক্ষেত্রে বিশেষ করে বলতে হয় সিকৃবি চলচ্চিত্র সংসদ এর কথা। যারা ইতোমধ্যে ৩ টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সফল আয়োজন করেছে। যেখানে দেশ বিদেশের নাম করা অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতারা অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া রয়েছে সিকৃবি আর্ট ক্লাব; যারা ইতমধ্যে তৈরি করেছে বাংলাদেশের সব থেকে বড় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চিত্রকর্ম। রয়েছে ফটোগ্রাফিক সোস্যাইটি; যারা আয়োজন করেছে ২টি জাতীয় ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী। সংক্ষেপে জেনে নেই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিচিতি-

১। কৃষ্ণচুড়া সাংস্কৃতিক সংঘ- সিকৃবি প্রতিষ্ঠাকালীন সাংস্কৃতিক সংগঠন।

২। বিনোদন সংঘ- অন্যতম একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।

৩। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (সিকৃবিসাস)।

৪। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (SAUDS)।

৫। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আর্ট ক্লাব (SAUAC)।

৬। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ (SAUFS)।

৭। লুব্ধক(থিয়েটার)- একমাত্র নাট্য সংগঠন।

৮। মৃত্তিকা- একমাত্র কৃষি বিষয়ক সংগঠন যারা বাংলাদেশ বেতার সিলেটে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচার করে।

৯। প্রাধিকার- প্রাণির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা জনপ্রিয় একটি সংগঠন।

১০। বাঁধন।

১১। পাঠশালা একুশ- সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌছিয়ে দেওয়ার মত জনকল্যানমূলক কাজ করে থাকে।

১২। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (SAUPS)।

১৩। শৈবাল

১৪। প্রথম আলো বন্ধুসভা।

১৫। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব।

১৬। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিস্ট ক্লাব সহ আরও বেশ কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

শিক্ষার্থী-সংগঠকদের কথাঃ

ব্যস্ততার মাঝেও কথা হলো সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন উদ্যমী তরুণ সংগঠক-শিক্ষার্থীদের সাথে। তারা বলেছেন ক্যাম্পাস নিয়ে তাদের নানান অভিজ্ঞতার গল্প।
পথিমধ্যেই দেখা হওয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো: মিজানুর রহমান ক্যাম্পাস ও সংগঠন সম্পর্কে জানান, “তারুণ্যের ছোঁয়ায় নতুন সূর্যোদয় ,
আলোকিত সমাজ গড়ার অটুট প্রত্যয়- এই স্লোগানকে সামনে রেখে দৃঢ় ভাবে এগিয়ে চলছে কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ ৷ এ বছরের ১৫ মে কৃষ্ণচূড়া এক যুগে পদার্পণ করেছে ৷ সাংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজও করে থাকে আমাদের এই সংগঠনটি”
উল্লেখ্য, কৃষ্ণচূড়ার এ সব ভিন্নধর্মী কাজের জন্য ২০১৫ সালে জয়বাংলা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল সংগঠনটি ৷

সিকৃবি ২ নং গেটের কাছেই দেখা হলো নাট্য সংগঠন লুব্ধকের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও বর্তমান সভাপতি আরশাদুল ইসলাম। তিনি জানান, “শিক্ষা,খেলাধুলা, সংস্কৃতি সব দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।”

হলের ছাদে দাঁড়িয়ে সুনিপুণ হাতের ছোয়ায় ছবি আঁকতে আঁকতে সিকৃবি আর্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সমীর মিত্র জানান, “সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রায় আর্টক্লাবের মত সৃজনশীল সংগঠন আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে।”

ফোনে যোগাযোগ করা হলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সংগঠন সিকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি উত্তম কুমার এর কাছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিক সমিতির কর্মকান্ড নিয়ে তিনি জানান, – “একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সেই জায়গা থেকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নচিত্র গনমাধ্যম কর্মীদের অক্লান্ত চেষ্টায় সর্বত্র প্রচার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও সমগ্র দেশের কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে বলে করি।”

গর্ব করার মত একটি সংগঠন সিকৃবি চলচ্চিত্র সংসদ। নবীন হলেও পর পর ৩ টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগীতা আয়োজন করে সাড়া জাগানো সেই চলচ্চিত্র সংসদের নব্য সাধারণ সম্পাদক এম সাইফুর রহমান জানান তার ভিতরের কথা, – “বাস্তবমুখী গবেষণামূলক শিক্ষার পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি সক্রিয় সংগঠন। যার মধ্যে অন্যতম একটি সংগঠন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। ২০১৬ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে এ পর্যন্ত আমরা পরপর তিনটি আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজন করেছি । যেখানে প্রতিবারই শতাধিক দেশের চলচ্চিত্র অংশগ্রহণ করে।এতে বহির্বিশ্বে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যেমন পরিচিত হচ্ছে ঠিক তেমনি শিক্ষার্থীদের নানাবিধ গুণাবলী বিকাশেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।”

সদ্য স্নাতক সম্পূর্ণ করা সিকৃবি শিক্ষার্থী তোহিদুর রহমান তার প্রিয় ক্যাম্পাস নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। তিনি জানান, “প্রতিষ্ঠার এক যুগে এসে সিকৃবি অনেকটা পরিনত। এখানে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনাও রয়েছে। পড়াশুনার পাশাপাশি অন্যান্য কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসে সিকৃবি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তাদের ভবিষ্যত জীবনের জন্য ভালোকিছু বয়ে আনবে। সিকৃবির মায়ায় এখন যে কেউ পড়তে বাধ্য হবে। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এমনটাই মনে হয় আমার।”

স্নাতক ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ফুটবল দলের অন্যতম একজন তানভীর রাহি জানান, – “খেলাধুলার পরিবেশ এখন আগের চেয়ে যথেষ্ট ভালো। আশা করি ক্যাম্পাসে অনেক ভালো খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে। আর পড়াশোনার ক্ষেত্রে সাফল্যের এই ধারা অব্যহত থাকবে বলে মনে করি।”

স্বপ্ন যখন পথ দেখায়ঃ

পড়াশোনার মাধ্যমে যেমন শিক্ষার্থীরা বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান লাভ করছে তেমনি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে যুক্ত থাকার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে দক্ষ নেতৃত্ত্ব ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা। তাছাড়া ভালো ফলাফল করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন দেখছেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা বলে জানা গেল, তারা লেখাপড়া শেষ করার পর ভালো চাকরি করে সমাজে আলোকিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চান।
অনেকেই জানিয়েছেন তাদের মনের সুপ্ত বাসনা, কেউ হতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউবা বিসিএস ক্যাডার আবার কেউ কেউ সরকারী বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও কাজ করতে চান। দেশ ও জাতির কল্যাণে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে দেশে খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় নিজেকে কাজে লাগাতে চান। শুধু স্বপ্ন নয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাস্তবেও এমন কাজ করে দেখাচ্ছেন।

শেষের কথাঃ

দেশের ৫ টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তির ক্ষেত্রে পরিবেশগত কারনেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার প্রথমে থাকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি দক্ষ ও শিক্ষিত জাতি গঠনে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই আশাবাদ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর