চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একাধিক মাটি কাটার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে জমির উর্ব্বরতা হ্রাসসহ স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে কৃষি জমি।
মাটি কাটা সিন্ডিকেটের লোকজন কৃষকদের কাছ থেকে নানা ভাবে প্রলোদ্ধ করে রাতদিন মাটি কেটে বিক্রি করে চললেও প্রশাসনের নিরবতায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আর্থিকভাবে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় অনেক কৃষক তাদের জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাপকহারে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি অফিস। এসব জমিতে বছরে দু’টি মৌসুমে ধান ও শীতকালীন সবজি ব্যাপকভাবে উৎপাদন হয়। কিন্তু কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব জমির টপ সয়েল কিনে নিচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দুই বা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বড় বড় ট্রাকে এসব মাটি পরিবহনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাটও। নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে এসব রাস্তায়।
গত ৬ জানুয়ারী উপজেলার বারশত ইউনিয়নের চালিতাতলী মিন্নত আলী হাট এলাকায় বাসিন্দা আবু সায়েদের পুত্র ওবাইদুল কাদের সুজাত তাদের পৈত্রিক মালিকানাধীন ভূমির মাটি কেটে স্থানীয় সিন্ডিকেট কর্তৃক বিক্রি করার অভিযোগ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বরাবর।
পরবর্তীতে ইউএনও হস্তক্ষেপে মাটি কাটা বন্ধ হলেও বর্তমানে বারশত ইউনিয়নের চালিতাতলী, দুধকুমড়া, বোয়ালিয়া, জুঁইদন্ডী, বারখাইন, পরৈকোড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনে বা রাতের আঁধারে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ট্রাকে করে ইটভাটাসহ বিভিন্নস্থানে বিক্রি করছে।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারী) দুপুরে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের চালিতাতলী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি ফসলি জমিতে মাটি কাটার কাজ করছেন ১০-১৫ জন লোক। মাটি কেটে ৬টি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপজেলার জমি ভরাট, ইটভাটাসহ বিভিন্নস্থানে। আর বটতলীতে বিলের মাঝখানে দেখা যায় একটি মাটি কাটার খননযন্ত্রও।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় সরকার দলীয় দুই নেতার নেতৃত্বে গত ২ মাস ধরে এলাকার ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে এব্যাপারে প্রশাসনিক কোনো তৎপরতা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ওবাইদুল কাদের সুজাত বলেন, আমাদের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করায় স্থানীয় মাটি কাটার সিন্ডিকেটের লোকজন মুঠোফোনে আমাকে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ূম শাহ্ বলেন, মাটি কাটার ব্যাপারে এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ পাইনি। তারপরও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ব্যাপারে আমি সবসময় বিরোধী। যদি কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ মাটি কাটলে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ তাদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/এসজে