প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চার দোকানে তালা দেয়ার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পুলিশের হুমকির পর চার দোকানে প্রতিপক্ষের লোকেরা তালা মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পৌর সভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েলের হস্তক্ষেপে ২০ ঘন্টা পর দোকানের তালা খুলে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ এসে দোকান বন্ধ করার হুমকি দেয়ার পরই প্রতিপক্ষের লোকজন এসে দোকানগুলোতে তালা মেরে দেন। বিষয়টি নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার সালিশ সভা ডেকেছেন পৌর মেয়র।

এদিকে প্রতিপক্ষের হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দোকানের মালিকের পরিবার। এছাড়া প্রকাশ্যে এভাবে তালা দেয়ার ঘটনা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয়।

কসবা পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা ভানু লাল রায় অভিযোগ করে বলেন, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ইতিমধেই তারা ভাগবাটোরায়া
করেছেন। এ সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও বন্টমনামাও আছে তার চার ভাইয়ের মধ্যে। কিন্তু তাঁর এক ভাই দুলাল রায় ১১১০ দাগের একটি দোকান দখল করার চেষ্টা করতে থাকেন।

সোমবার রাতে দুলাল ও তার ছেলে দীপঙ্কর তার (ভানু লাল রায়) চারটি দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। এর আগে কসবা থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোঃ আমিনুল ইসলাম ওই চার দোকানের ভাড়াটিয়াকে এসে দোকান না খোলার কথা ও মালিকসহ থানায় যাওয়ার কথা বলে যান।

মঙ্গলবার দুপুরে কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল এ বিষয়ে দুইপক্ষ ডেকে বৃহস্পতিবার বিষয়টি মীমাংসা করে দেবেন বলে জানান। মেয়রের নির্দেশে বিকেলে তালা খুলে দেন দুলাল। দোকান খুলে দিয়ে দুলালের ছেলে দীপঙ্কর বাসায় গিয়ে ভানু লাল রায়ের পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন।

দোকানের মালিক ভানু লাল রায় বলেন, বিএস, সিএসসহ যাবতীয় কাগজপত্রে তার নাম রয়েছে। কিন্তু তার ভাই দুলাল রায় তার মালিকানায় থাকা একটি দোকান দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর তিনি পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে দুলাল রায়ের ছেলে দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘আমার বাবা ওই জায়গার মালিক। পুরাতন বাজার কমিটির সভায় হওয়া সিদ্ধান্ত মতে দোকানে তালা লাগানো হয়। পরে মেয়র মীমাংসার দায়িত্ব নিলে আবার তালা খুলে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে পুরাতন বাজার ব্যবসায়ি পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুলাল আমাদেরকে তার নামে ওই জায়গার বিএস’র একটি কাগজ দেখিয়েছে। তিনি দোকানটি বিক্রি করে দিলেও দখল দিতে পারছেন না। যে কারণে দোকান দুলালের বলে রায় দিয়ে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়। তবে এখন মেয়র এ বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে বৃহস্পতিবার বাজার কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদেরকে নিয়ে সভা ডেকেছেন।

এ ব্যাপারে কসবা থানার এএসআই মোঃ আমিনুল ইসলাম হুমকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দুলাল রায় থানায় একটি সাধারন ডায়রি
(জিডি) করলে এরই প্রেক্ষিতে দোকান কর্মচারি ও মালিককে থানায় আসতে বলা হয়।

কসবা পৌরসভার মেয়র মোঃ এমরান উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর দোকানের তালা খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সভা ডাকা হয়েছে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর