দারোয়ান দেখেন রক্তাক্ত আনুশকাকে সোফায় শুইয়ে রাখা হয়েছে

রাজধানীর ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ইফতেখার ফারদিন দিহানের বাসার দারোয়ান দুলালকে আদালতে নিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) কলাবাগান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাস গণমাধ্যমে বলেন, দুলালকে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে যতটুকু জানে, আমরা তার কাছে থেকে ততটুকু জানার চেষ্টা করেছি। সকালে তাকে আদালতে নেয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি এই মামলার আসামি না, তাই সাক্ষ্য দেওয়া শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এদিকে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিএমপি রমনা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দুলালের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, দুলাল আমাদের বলেন, ঘটনার দিন সকাল থেকেই দুলাল দিহানদের বাসার গেইটে দায়িত্বরত ছিলেন। দিহান ওই ছাত্রীকে বাসায় নিয়ে গেলে সে দিহানকে কিছু বলেনি। এর এক ঘণ্টা পর ইন্টারকমে দিহান তাকে ফোন দিয়ে বাসায় যেতে বলে। বাসায় গিয়ে দারোয়ান দেখেন, মেয়েটিকে সোফায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। সোফায় রক্ত লেগে ছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য দুলাল তাদের গাড়িতে তুলে দেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি বাসা থেকে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে ও এখন পর্যন্ত মামলার তদন্তে এ ঘটনায় শুধুমাত্র দিহান জড়িত থাকার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও এ ঘটনা দিহান একা ঘটায়নি বলে দাবি করছেন আনুশকার বাবা আল আমিন। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে বলে অভিযোগ তার।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) বন্ধু দিহানের মোবাইল কল পেয়ে বাসা থেকে বের হন আনুশকা। ফাঁকা বাসায় শারীরিক সম্পর্কের একপর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে আনুশকাকে মৃত বলে ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বার্তাবাজার/এস.জি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর