ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলাটি ভারতের মেঘালয় ঘেসে অবস্থিত। এই উপজেলার মানুষের প্রধান পেশা হলো কৃষি। এখানে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আর এই কৃষি কাজের জন্য কৃষরা জমি হাল চাষ করতো গরু এবং মহিষ দিয়ে।
বোর মৌসুমে কৃষকরা লাঙ্গল জোয়াল আর মই নিয়ে কাক ডাকা ভোরে জমিতে হাল চাষ করে ব্যস্ত সময় খাটাত। শীতকালে গ্রাম বাংলায় হালচাষ করার এই পরিচিত দৃশ্যটা এখন আর দেখা যায় না। আধুনিকতার স্পর্শে ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়াও লেগেছে কৃষিতে। তাই তো কৃষি ছোঁয়ায় দেখা যায় বেশ পরিবর্তন।
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার এসে দখল করে নিয়েছে হালের জায়গা। আর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত এসব স্বল্প মূল্যের কৃষি উপকরণ এবং গরু দিয়ে হাল চাষ করে তারা যুগের পর যুগ ধরে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নিবার্হ করতেন।
এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশে রক্ষা হয়, অন্যদিকে গরুর গোবর কৃষি জমিকে উর্বরতা বাড়িয়ে দেয় এবং কৃষকের অর্থ ব্যয়ও কম হয়। এটি খুব বেশি দিনের কথা নয়, প্রায় ১৫ -২০ বছর আগে এসব গরুর হালে লাঙ্গল-জোয়াল আর মই গ্রামগঞ্জের জমিতে হরহামেশাই দেখা যেত। হাল চাষিদের অনেকে নিজের জমিতে হাল চাষ করার পাশাপাশি অন্যের জমি চাষ দিয়ে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু অথর্ও উপাজর্ন করতেন।
ফসলের জন্য জমি উপযুক্ত করতে গরু-মহিষের হালের কোন বিকল্প নেই। অথচ এই উপযুক্ত জিনিসই এখন ধোবাউড়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সময় বাঁচাতে আর কৃষি শ্রমিকের অভাবে জমি চাষের জন্য গ্রাম বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল আর চোখে পড়ে না।
বার্তাবাজার/এ.আর