ধরলা নদীর গতিপ্রবাহ বন্ধ করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছিলো নদীর বালু। গত কয়েকদিন ধরে এমন চিত্র দেখা গিয়েছিলো কুড়িগ্রামের জেলা সদরে ধরলা নদী সেতুর উত্তরদিকে।
প্রায় ১৫০- ৩০০ মিটারের দুইটি রাস্তা নির্মান করা হয়েছিলো প্রবাহমান নদীর মাঝখান দিয়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধরলা নদীর পুরনো ঘাটে প্রায় ২০০-৩০০ মিটারের একটি রাস্তা নিমার্ন করা হচ্ছে বাঁশ, বালুর বস্তা ফেলে,যাতে সহজে নদীর বালু পরিবহন করা যায় এবং পুরনো ঘাট থেকে একটু দুরে আরেকটি রাস্তা নদীর মাঝ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে বালু পরিবহন করার জন্য যা প্রায় ১৫০-২০০ মিটার হবে। ধরলা নদীর মাঝে জেগে উঠা চরগুলো থেকে তোলা হচ্ছে বালু। এসব বালু পরিবহনের জন্য ৩০-৩৫ টি ট্রাকটর সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত কাজ করছে। যার প্রতিটি বালু ভর্তি ট্রাকটর নয়শত থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা সম্পুন্ন অবৈধ।

এ বিষয়ে গত ৯ জানুয়ারী শনিবার বার্তা বাজারে ‘নদীর গতিপ্রবাহ বন্ধ করে,অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের।
সোমবার (১১ জানুয়ারী) বেলা ১১ টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক ধরলা নদীর উত্তরদিকে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় নদীর উপর নির্মিত ১৫০-২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তাটি ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার জন্য ২জনকে আটক এবং একটি ট্রাকটর গাড়ি জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনা থাকা দায়িত্বরত কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাসিবুল হাসান বার্তা বাজারকে জানান,‘বার্তা বাজারে সংবাদ প্রকাশের পর নদীর মাঝখানে রাস্তা তৈরী ও বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানতে পারি। আমরা মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষন আইন ১৯৫০ এবং জলমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করছি।
এই ধরণের অভিযান আমাদের অব্যহত থাকবে। প্রশাসনের এরকম উদ্যোগকে স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় লোকজন এসময় রাস্তাটি ভাঙতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন,”নদীর মাঝত রাস্তা দেয়ার জন্য,হামার এত্তি নদী ভাঙতেছে,এমন অভিযান মাঝে মাঝে করলে হামারগুলার জন্য ভালো হয়।”
অভিযান পরিচালনার সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোছাঃ ইসমাত আরা,বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।
বার্তাবাজার/পি